ফ্ল্যাট বিক্রি করে ১১.৮ কোটি টাকা লাভ, কিন্তু কর শূন্য! আইনি লড়াইয়ে নজির গড়লেন বেঙ্গালুরুর ব্যক্তি

কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেও কর দিতে হলো না! শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, বেঙ্গালুরুর এক জমি মালিক এমনই এক ঐতিহাসিক আইনি জয়ের মাধ্যমে নিজের ১১.৮ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভের (LTCG) ওপর শূন্য কর দাবি করে নজির স্থাপন করলেন। আয়কর বিভাগের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেঙ্গালুরুর আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)-এ এই জয় পেলেন তিনি।

পুরো ঘটনাটি কী?
বেঙ্গালুরুর কোরামাঙ্গালার বাসিন্দা শ্রী আগরওয়াল তাঁর জমি এক বিল্ডারের সঙ্গে ‘যৌথ উন্নয়ন চুক্তি’ বা জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট (JDA)-এর আওতায় দেন। বিনিময়ে তিনি নতুন তৈরি হওয়া আবাসন প্রকল্পের ১৭টি অ্যাপার্টমেন্ট পান। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই ১৭টি ফ্ল্যাট বিক্রি করে তাঁর মুনাফা হয় প্রায় ১১.৮ কোটি টাকা। তিনি আয়কর আইনের ধারা ৫৪ বা ৫৪এফ অনুযায়ী এই লাভের ওপর কর ছাড় দাবি করেন।

কেন আপত্তি জানিয়েছিল আয়কর দপ্তর?
আয়কর দপ্তরের মূল বক্তব্য ছিল, কর ছাড় শুধুমাত্র ‘একটি আবাসিক বাড়ি’ কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৭টি পৃথক অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। দপ্তর এটিকে কর ফাঁকির প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করে করদাতাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কর পরিশোধের নোটিশ পাঠায়।

কীভাবে পরিস্থিতি পাল্টে দিলেন করদাতা?
আগরওয়াল দপ্তরের নোটিশের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যান। সেখানে তাঁর আইনজীবী একাধিক হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরেন। ট্রাইব্যুনাল তাঁর পক্ষেই রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

কোনো যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় একই কমপ্লেক্সে একাধিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ হলে সেগুলোকে আইনি ব্যাখ্যায় ‘একটি আবাসিক ইউনিট’-এর অংশ হিসেবেই ধরা যেতে পারে।

যেহেতু এটি একটি একক চুক্তির অধীনে পৈতৃক বা মূল জমির বিনিময়ে পাওয়া ফ্ল্যাট, তাই একে বাণিজ্যিক লেনদেনের আওতায় আনা যায় না।

এই রায়ের ফলে আয়কর দপ্তরের নোটিশ খারিজ হয়ে যায় এবং করদাতা বৈধভাবেই ‘শূন্য কর’ (Zero Tax)-এর সুবিধা পান।

সম্পত্তি মালিক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য শিক্ষা:
এই মামলা রিয়েল এস্টেট খাতের সঙ্গে যুক্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল:
১. চুক্তিপত্র: বিল্ডারের সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে প্রবেশের সময় শর্তাবলী স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করুন।
২. অভিজ্ঞ পরামর্শ: কোটি টাকার লেনদেনে কর বাঁচাতে বা জটিলতা এড়াতে সর্বদা একজন যোগ্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) বা কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৩. সতর্কতা: আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কর আইনে সৎ করদাতাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত আইনি বিধান ও বিচারিক নজির রয়েছে।

এই রায় ভবিষ্যতে সম্পত্তি মালিকদের জন্য কর সাশ্রয়ের এক নতুন পথ খুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *