এআই দুনিয়ায় এইচসিএলটেকের বড় বাজি! ৩৫০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা, তবে ছাঁটাই ৩,৩০০ কর্মী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপ্রতিম অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবার ডেটা সেন্টার ব্যবসায় নামছে আইটি জায়ান্ট এইচসিএলটেক। এই খাতে কোম্পানিটি প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে একই সাথে তারা তাদের কর্মী সংখ্যায় বড়সড় কাটছাঁট করেছে, যা প্রযুক্তি মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এআই ব্যবসায় নতুন পথ:
এইচসিএলটেকের সিইও বিজয়কুমার জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি ও বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের সার্বভৌম ডেটার (Sovereign Data) চাহিদা তুঙ্গে। সেই চাহিদা মেটাতেই তারা ফুল-স্ট্যাক এআই পরিষেবায় নজর দিচ্ছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় এআই স্টার্টআপ ‘সর্বম এআই’-এ ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ওপেনএআই-এর সাথে চ্যাটজিপিটি এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারের অংশীদারিত্ব করেছে। বিজয়কুমার বলেন, “এআই কম্পিউটিংয়ের অর্থনীতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আমাদের কাছে ডেটা সেন্টার হলো এআই সমাধান প্রদানের মূল ভিত্তি।”
কর্মী ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে:
বিনিয়োগের উজ্জ্বল খবরের আড়ালে উঠে এসেছে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্বেগজনক তথ্য। চলতি বছরের জুন মাসের ত্রৈমাসিকে এইচসিএলটেক প্রায় ৩,২৯২ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে গত ৩০ জুন পর্যন্ত মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,২৩,৮৮৯ জনে, যা মার্চের শেষে ছিল ২,২৭,১৮১ জন। বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠছে, এআই-এর যুগে অটোমেশনই কি এই ছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ?
আইটি সেক্টরে অনিশ্চয়তা ও সম্ভাবনা:
এআই টুলের উত্থান ভারতীয় আইটি সেক্টরের প্রথাগত কাজের ধরনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এআই-এর ব্যাপক প্রসারে আইটি পরিষেবার পুরনো মডেলগুলো সংকটের মুখে পড়তে পারে। তবে এইচসিএলটেক, টিসিএস-এর মতো সংস্থাগুলো একে ‘অবসান’ হিসেবে না দেখে, একে ‘নতুন প্রবৃদ্ধির পথ’ হিসেবে গ্রহণ করছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে চুক্তির পর্যায়ে রয়েছে।
একনজরে এইচসিএলটেকের পরিকল্পনা:
বিনিয়োগ: ডেটা সেন্টার পরিকাঠামোয় ৩,৫০০ কোটি টাকা।
লক্ষ্য: জিপিইউ (GPU), এআই মডেল ও এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশনসহ ফুল-স্ট্যাক এআই পরিষেবা।
কৌশল: সরাসরি ডেটা সেন্টার ব্যবসা ও এআই স্টার্টআপে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।