মুম্বইয়ে ৮ বছরের শিশুকে শৌচাগারে পাশবিক অত্যাচার! রাস্তায় নেমে গণবিক্ষোভ জনতা, ঘেরাও করা হলো বিধানসভার স্পিকারকে!

মহারাষ্ট্রের নसরাপুরে (Nasrapur) এক নাবালিকাকে নির্যাতনের মামলায় দোষীকে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে ফাঁসির সাজা শোনানোর ঘটনা এখনও টাটকা। কিন্তু সেই কড়া আইনের আতঙ্কের মাঝেই আবার এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল মায়ানগরী মুম্বই। এবার খোদ আবাসন বা বাণিজ্যিক এলাকার শৌচাগারের ভেতরে আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক নিরাপত্তা রক্ষী বা ওয়াচম্যানের বিরুদ্ধে। রবিবার (১২ জুলাই, ২০২৬) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুম্বইয়ের পায়ধুনি (Pydhonie) এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, রণক্ষেত্র পায়ধুনি
ঘটনাটি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। অভিযুক্ত ওই সিকিউরিটি গার্ডের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে শত শত মানুষ পায়ধুনি থানার বাইরে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছুক্ষণের জন্য থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। নির্যাতিতা নাবালিকাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘেরাও হলেন বিধানসভার স্পিকার!
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ শান্ত করতে পায়ধুনি থানায় পরিদর্শনে যান মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার রাহুল নারভেকর (Rahul Narwekar)। কিন্তু তাঁর আসাতেও ক্ষোভ কমেনি। উত্তেজিত জনতার একাংশ স্পিকারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং অপরাধীর অবিলম্বে ফাঁসির দাবি তুলে স্লোগান দেন। এলাকায় যাতে নতুন করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
দ্রুত বিচার ও ‘শক্তি আইন’ চালুর দাবি
এই নৃশংস ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের বিরোধী শিবিরের বিধায়ক রোহিত পওয়ার (Rohit Pawar) এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, “নসরাপুরের মতো প্রতিটি মামলায় যদি দ্রুত বিচার না মেলে, তবে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় চলে যাবে।” তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দ্রুত শুনানির দাবি জানান এবং মহারাষ্ট্রে কঠোর ‘শক্তি আইন’ (Shakti Act) অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানান।
উল্লেখ্য, গত মাসেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস জানিয়েছিলেন যে, নসরাপুর কাণ্ডে এক ৬৫ বছর বয়সী অপরাধীকে অপরাধের ৬০ দিনের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত করে তিনটি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পায়ধুনি কাণ্ডেও তেমনই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলছে সাধারণ মানুষ।