খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে গঙ্গাজল ও রামমন্ত্রে ‘ঘরওয়াপসি’! শঙ্করাচার্যের সামনে ৫ আদিবাসী পরিবারের কী এমন ঘটল যা দেখে থমকে গেল দেশ?

ধর্ম পরিবর্তনের বাজারে এবার উলটপুরাণ! গুজরাটের ছোট উদয়পুরের এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কোনো প্রলোভন বা চাপ নয়, সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় এবং পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতির টানে খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্মে ফিরে এলেন ৫টি আদিবাসী পরিবার। আনন্দ বর্ধন আশ্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে স্বয়ং দ্বারকা পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী সদানন্দ সরস্বতীর উপস্থিতিতে এই ঘরওয়াপসি বা স্বধর্মে প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়।
গঙ্গাজল ও শ্রীরাম মন্ত্রে শুদ্ধিকরণ:
ছোট উদয়পুর জেলার ওই প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা রামু ভাইল, সীতা বেন, লক্ষ্মণ ভাই, রাধা বেন ও মোহন ভাই—তাঁদের পরিবারসহ দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টধর্ম অনুসরণ করে আসছিলেন। কিন্তু আদিবাসী সংস্কৃতির মূল শিকড়ের প্রতি টান থেকেই তাঁরা সনাতন ধর্মে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আশ্রমের উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে শঙ্করাচার্য স্বামী সদানন্দ সরস্বতী নিজে তাঁদের হাতে পবিত্র গঙ্গাজল তুলে দেন এবং শ্রীরাম মন্ত্র জপ করান।
“আদিবাসীরা সনাতন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ”:
ধর্মান্তরণ প্রক্রিয়া শেষে স্বামী সদানন্দ সরস্বতী বলেন, “সনাতন ধর্ম হল এই দেশের আদি ও অমর সংস্কৃতি। প্রত্যেক ভারতীয়ের রক্তে এই ধর্মের সুর বয়ে চলে। যাঁরা আজ ফিরে আসছেন, তাঁরা আসলে নিজেদের মূলের কাছেই ফিরে গেছেন।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, আদিবাসী সমাজের দেবতা, উৎসব এবং লোকসংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে সনাতনী ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় স্তরে ব্যাপক আলোড়ন:
এই ঘটনা গুজরাটের আদিবাসী অঞ্চলে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকায় বিভিন্ন বহিরাগত ধর্মীয় সংগঠনের প্রভাব বাড়ছিল। অনেকে অজ্ঞতাবশত বা প্রলোভনে পড়ে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন যে, নিজস্ব সংস্কৃতি ত্যাগ করলে identity বা জাতিগত পরিচয় হারিয়ে যায়। এই পাঁচ পরিবারের সাহসিকতা দেখে এখন ওই অঞ্চলের আরও বহু পরিবার সনাতন ধর্মে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।