দেবের ওপর মারাত্মক ক্ষোভ! ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ করিমুল হকের গলায় হতাশার সুর, কেন নিলেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

টলিপাড়ার অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’-র মুক্তি ঘিরে তৈরি হলো চরম বিতর্ক। স্বাধীনতা দিবসের আবহে আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতা দেবের এই ছবি বড় পর্দায় আসার কথা থাকলেও, আচমকাই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বয়ং দেব তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই দুঃসংবাদটি ভাগ করে নেন। অভিনেতার দাবি, দর্শকদের আরও নিখুঁত এবং উন্নত সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা উপহার দিতেই এই সাময়িক বিরতি। তবে নতুন মুক্তির দিনক্ষণ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে আসল বিতর্ক। যার জীবনসংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে এই বায়োপিক তৈরি হচ্ছে, সেই পদ্মশ্রী করিমুল হক স্বয়ং এই সিদ্ধান্তের কথা জানতেন না! সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রথম এই খবর শুনে রীতিমতো ভেঙে পড়েন বাস্তবের ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’।

তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা করিমুল হকের গলায়
অত্যন্ত মর্মাহত করিমুল হক জানান, “বিগত কয়েক মাস ধরে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে আমি নিজেই এই ছবির প্রচার করেছি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বহু সংস্থাকে ১৫ আগস্ট ছবিটি দেখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আচমকা কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তার কিছুই আমি জানি না।” তাঁর বড় অভিযোগ, দেব কিংবা প্রযোজনা সংস্থা—কোনো পক্ষ থেকেই তাঁকে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানোর প্রয়োজন মনে করা হয়নি।

এই মাসের শেষেই প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে করিমুল বাবুর। সেখানে তাঁদের এই ছবি দেখার আমন্ত্রণ জানানোরও পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই ছবি শুধু আমার জীবনের গল্প নয়, গোটা বাংলার গর্ব। উত্তরবঙ্গের এক সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।” এর আগেও রাজাডাঙ্গা ও মালবাজারে শুটিংয়ের সময়ও তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।

নেপথ্যে কি টলিউডের বক্স অফিস যুদ্ধ?
এদিকে টলিপাড়ার অন্দরের খবর, ছবিটির মুক্তি একেবারে বাতিল হয়নি। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে বা ১৫ আগস্টের ৪-৫ দিন পরেই এটি প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই পিছিয়ে যাওয়া?

ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, আগামী ১৪ আগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে টলিউডের আরেক সুপারস্টার জিৎ অভিনীত স্বাধীনতা সংগ্রামী অনন্ত সিংহের জীবনভিত্তিক ছবি। কাকতালীয়ভাবে, জিতের এই ছবি এবং দেবের ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’—দুটিরই প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী। একই প্রযোজকের দুটি মেগা বাজেট ছবি একসাথে মুক্তি পেলে বক্স অফিসে যে বড়সড় সংঘাত তৈরি হতো, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই ব্যবসায়িক ক্ষতি এড়াতেই কি দেবের ছবি পিছিয়ে দেওয়া হলো? এই নিয়ে এখন টলিপাড়ায় জল্পনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *