গ্রেফতার নির্মল ঘোষের ছেলে! লটারির ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীঘরে তীর্থঙ্কর

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে অবশেষে গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তথা এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বর এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে খড়দা থানার পুলিশ। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং লটারির টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁকে সোমবার আদালতে পেশ করা হবে।
কী অভিযোগ তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে?
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক কোটি টাকার একটি লটারি টিকিট। পার্থ সরকার নামে এক যুবকের অভিযোগ, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ওই লটারির টিকিট তাঁর থেকে কেড়ে নেন তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর। এখানেই শেষ নয়, টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি মারধর এবং খুনের হুমকির অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চলছিল। পুলিশের দাবি, অপরাধের পর থেকেই তীর্থঙ্কর গা ঢাকা দিয়েছিলেন। অবশেষে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে দক্ষিণেশ্বর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
আগেও গ্রেফতার হয়েছেন সহযোগীরা
এই লটারি কাণ্ড ও তোলাবাজির ঘটনায় আগেই খড়দা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার সময় প্রভাবশালী হওয়ায় নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলের নাম এড়াতে পুলিশ প্রথমে শুধুমাত্র হোটেল মালিক সুশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, নতুন করে মামলা রুজু হয়। এর আগে পানিহাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাস ও হোটেল মালিক সুশান্ত সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে লটারি জালিয়াতি—বিভিন্ন ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের নাম বারবার উঠে এসেছে। সম্প্রতি তাঁকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বৈঠকে দেখা যেতেই রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং বিধায়ক তীব্র ভাষায় নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির দাবি তোলেন। যদিও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্মল ঘোষের সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
পিতার পর পুত্রের এই গ্রেফতারি পানিহাটির তৃণমূল শিবিরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পুরনো মামলাগুলি একের পর এক সামনে আসায় প্রভাবশালী নেতাদের কোণঠাসা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।