পর্দায় ‘রাইকিশোরী’ থেকে বিধায়ক! অদিতির উত্থান ও বর্তমান বিপত্তির নেপথ্যে কী?

তৃণমূল নেতা তথা স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পর থেকেই শিরোনামে রয়েছেন জনপ্রিয় কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি। দুর্নীতি, সম্পত্তির হিসাব নয়ছয় এবং তোলাবাজির অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই অদিতির ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। সাধারণ ঘরের মেয়ে অদিতি কীভাবে আজকের ‘রাইকিশোরী’ হয়ে উঠলেন এবং রাজনীতির অন্দরমহলে পৌঁছালেন, তা নিয়েই এখন জল্পনার শেষ নেই।

সাধারণ মেয়ে থেকে গানের মঞ্চে: বাগুইআটির এক ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম অদিতির। বাড়িতে গান শোনার চল ছিল ছোটবেলা থেকেই। বাবার রেকর্ড সংগ্রহের শখই অদিতির মনে গানের বীজ বুনে দিয়েছিল। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে হাতেখড়ি হওয়ার পর মাধ্যমিক স্তরেও সঙ্গীত ছিল তাঁর অন্যতম বিষয়। উচ্চশিক্ষাও করেছেন গান নিয়ে। সরস্বতী দাসের কাছে কীর্তন শিক্ষার পর ২০১৫ সালে ‘সারেগামাপা’ রিয়্যালিটি শো-এ অংশ নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান।

‘অদিতি’ থেকে ‘রাইকিশোরী’: টেলিভিশনের পর্দায় কীর্তনের জাদুতে মুগ্ধ করে অদিতির নাম হয়ে যায় ‘রাইকিশোরী’। কৃষ্ণভক্ত অদিতির হরি নামের সুরে মজেছিল হাজারো শ্রোতা। বাগুইআটি-রাজারহাটের স্থানীয় মঞ্চ থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার সময়েই কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ২০১৮ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ‘গোত্র’ ছবিতে প্লেব্যাক করে তাঁর সঙ্গীতজীবন আরও সমৃদ্ধ হয়।

রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্ক: ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হন অদিতি। ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের ৭ বছর পর সন্তানের মা হন তিনি। তবে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হতে হয়েছে তাঁকে। কখনো বিল না মেটানোর অভিযোগ, আবার কখনো ব্যক্তিগত ভ্রমণের ছবি নিয়ে তাঁকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বর্তমানে স্বামীর গ্রেফতারির পর অদিতি মুন্সিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড়সড় রাজনৈতিক ও আইনি সংকট। একদিকে জনপ্রিয় কীর্তন শিল্পীর ভাবমূর্তি, অন্যদিকে পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ— সব মিলিয়ে অদিতি এখন বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। তবে এই বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *