বাবল র্যাপ ফাটাতে ভালোবাসেন? জানেন কি, এটি আসলে আপনার মস্তিষ্কের এক বিশেষ ‘থেরাপি’!

নতুন কোনো পার্সেল হাতে আসার পর জামাকাপড় বা বই বের করার আগে কি আপনার চোখ সবার আগে খোঁজে বাবল র্যাপ? প্যাকেট থেকে সেই প্লাস্টিক বের করে একের পর এক বুদবুদ ফাটানোর তৃপ্তিই যেন আলাদা। অনেকেই এই অভ্যাসকে ‘ছেলেমানুষি’ মনে করেন, কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, এই বাবল র্যাপ ফাটানোর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর মানসিক স্বস্তির রসায়ন।
কেন বাবল র্যাপ ফাটানো আমাদের ভালো লাগে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবল র্যাপ ফাটানোর সময় যে খট করে ছোট্ট ‘পপ’ শব্দ হয় এবং আঙুলের ডগায় যে মৃদু স্পন্দন বা অনুভূতি তৈরি হয়, তা আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের ‘সেনসরি স্যাটিসফ্যাকশন’ বা সংবেদনশীল তৃপ্তি দেয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘রিপিটেটিভ সেনসরি বিহেভিয়ার’ বা পুনরাবৃত্তিমূলক সংবেদনশীল আচরণ। এই ধরনের ছোট ছোট কাজ বারবার করার মাধ্যমে মস্তিষ্ক কিছুক্ষণের জন্য বর্তমান মুহূর্তে পুরোপুরি মনোযোগী হতে পারে, যা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপের দাওয়াই?
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ বাবল র্যাপ ফাটানোর পর মানুষ নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও সতেজ অনুভব করেন। দৈনন্দিন কাজের চাপের মধ্যে এটি এক ধরনের ‘মাইন্ডফুলনেস’ হিসেবে কাজ করে, যা মনকে সাময়িক ভারমুক্ত করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কোনোভাবেই মানসিক বিকার নয়, বরং মানসিক চাপ কমানোর একটি সহজ ও নিরীহ উপায়।
কখন সতর্ক হবেন?
বাবল র্যাপ ফাটানো যে দারুণ একটি অভ্যাস হতে পারে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা একটি সতর্কতাও দিয়েছেন। যদি আপনার কোনো অভ্যাস বা শখ এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে তা আপনার দৈনন্দিন কাজ, কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তবে সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
তবে মনে রাখবেন, যদি আপনার বাবল র্যাপ ফাটাতে ভালো লাগে, তবে নিজেকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। এটি আপনার মস্তিষ্কের চাপ কমিয়ে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার একটি একেবারে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া। তাই পরের বার বাবল র্যাপ হাতে পেলে দ্বিধা না করে নিজের মস্তিষ্কের তৃপ্তি খুঁজে নিন!