খরচ কমল কয়েক গুণ! মাত্র চার মাসে তৈরি নাসার নতুন স্যাটেলাইট পাড়ি দিল মহাকাশে

মহাকাশ গবেষণায় খরচ কমাতে এবং গতি বাড়াতে ফের বড় সাফল্য পেল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। সম্প্রতি স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ট্রান্সপোর্টার-১৭ মিশনের অংশ হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হলো নাসার নতুন কিউবস্যাট ‘আর৫-এস৯’ (R5-S9)। গত ৭ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়।
মাত্র চার মাসের বিস্ময়:
সাধারণত একটি স্যাটেলাইট তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের প্রকৌশলীরা মাত্র চার মাসের মধ্যেই এই কিউবস্যাটটি ডিজাইন এবং তৈরি করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ (COTS) ব্যবহার করে কীভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য মহাকাশযান তৈরি করা যায়, তারই একটি মাইলফলক এই মিশন।
কী থাকছে এই কিউবস্যাটে?
আগামীর মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে এই আর৫-এস৯-এর মাধ্যমে:
এজ কম্পিউটিং: স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজের সহযোগিতায় তৈরি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ বা পৃথিবী থেকে আসা ডেটা কোনো গ্রাউন্ড স্টেশনের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসেস করা সম্ভব হবে।
অপটিক্যাল কমিউনিকেশন: দ্য অ্যারোস্পেস কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এতে রয়েছে একটি কম খরচের অপটিক্যাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট থেকে দ্রুত ও সস্তায় তথ্য আদান-প্রদান করতে সাহায্য করবে।
খরচ ও সময়ের সাশ্রয়:
নাসার এই আর৫ সিরিজের মূল লক্ষ্য হলো কাস্টম হার্ডওয়্যারের ব্যবহার কমিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। প্রতিটি মিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা পরবর্তী স্যাটেলাইটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খরচ কমানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সাফল্যের কথা নাসা ছোট উপগ্রহ নির্মাণকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও ভাগ করে নেবে, যাতে বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণায় গতি আসে।
মিশন সাপোর্ট:
নাসার ‘ভেঞ্চার-ক্লাস অ্যাকুইজিশন অফ ডেডিকেটেড অ্যান্ড রাইডশেয়ার’ (VADR) চুক্তির অধীনে হিউস্টন-ভিত্তিক এসইওপিএস (SEOPS) এই উৎক্ষেপণের দায়িত্ব সামলেছে। নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টার ও জনসন স্পেস সেন্টারের যৌথ তত্ত্বাবধানে এই মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে।