থানার চেয়ারে এবার ‘নারীশক্তি’! সরশুনা ও সিঁথির ওসি পদে দুই মহিলা অফিসার, বদল এল দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রথায়

দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রথা ভেঙে কলকাতা পুলিশের মূল থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন দুই দক্ষ মহিলা পুলিশ অফিসার। রাজ্য সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ রদবদলে সরশুনা থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নিলেন রূপা সিং এবং সিঁথি থানার ওসি হিসেবে নিযুক্ত হলেন চামেলি মুখোপাধ্যায়। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ‘নারী ক্ষমতায়নের’ এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাকশনে সরগুনার নতুন ওসি:
টালিগঞ্জ মহিলা থানার ওসির দায়িত্ব সামলানোর পর এবার সরশুনা থানার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল থানার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপা সিং। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাকে বেশ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। মহিলা পুলিশ কর্মীদের সাথে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে রূপা সিং বলেন, “আগে মহিলা থানার ওসি ছিলাম, এবার চ্যালেঞ্জ আরও বড়। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে আমি এই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রথম দিনেই এলাকা ঘুরে দেখেছি এবং থানার দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর নজর দিচ্ছি।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ১৫ বছর ধরে কলকাতায় মহিলা পুলিশ অফিসারদের সাধারণত শুধুমাত্র মহিলা থানাগুলোতেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। বামফ্রন্ট সরকারের আমলের পর এই প্রথম কোনো মহিলা ইন্সপেক্টরকে কলকাতার প্রধান থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্য সরকার নারী নিরাপত্তার পাশাপাশি নারী নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কারা পেলেন দায়িত্ব?
কলকাতা পুলিশের ৩৩ জন ইন্সপেক্টর পদের আধিকারিকের রদবদলের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার।

রূপা সিং: টালিগঞ্জ মহিলা থানা থেকে সরশুনা থানার ওসি।

চামেলি মুখোপাধ্যায়: উল্টোডাঙা মহিলা থানা থেকে সিঁথি থানার ওসি।

চামেলি মুখোপাধ্যায় অতীতে কিছুদিনের জন্য ভবানীপুর থানার দায়িত্ব সামলানোর সুযোগ পেলেও, বর্তমান এই পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছে প্রশাসনিক মহল।

প্রশাসনের বার্তা:
নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে বরাবরই সরব রাজ্য সরকার। এই রদবদলের মাধ্যমে প্রশাসন বার্তা দিতে চাইছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে মহিলারা কোনো অংশে কম নন। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও এই নিয়োগ নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অভিজ্ঞ এই দুই অফিসার মূল থানার দায়িত্ব সামলে কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *