হিসাবের মারপ্যাঁচ আর জল্পনার অবসান! তারাপীঠ মন্দির তহবিলে জমা পড়ল বড় অঙ্কের টাকা

মা তারার পীঠস্থান তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ঢল সারা বছরই লেগেই থাকে। বিশেষ করে ভিআইপি লাইন এবং সংস্কারের জন্য ভক্তদের মুক্তহস্ত দানের মাধ্যমে মন্দিরের তহবিলে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ হয়। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এই বিপুল অর্থ মন্দিরের সরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ ছিল। অবশেষে সেই জট কাটিয়ে মন্দিরের অ্যাকাউন্টে আড়াই কোটি টাকা জমা পড়ল।

টাকা আটকে ছিল কেন? বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারাপীঠ মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবিবাবুকে। অভিযোগ ওঠে, দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্দিরের নিত্যদিনের মোটা অঙ্কের আয়ের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর এই অর্থ সরকারি হিসাবের বাইরে ছিল।

তদন্তের মুখে ‘জীবিতকুণ্ড’ সংস্কারের খরচ মন্দিরের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব শুরু করে। এই হিসাব খতিয়ে দেখতে গিয়েই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ইতিমধ্যে মন্দিরের ‘জীবিতকুণ্ড’ সংস্কারের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে এই খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বীরভূম জেলা প্রশাসন পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

বদলেছে নিয়মকানুন প্রসঙ্গত, তারাপীঠ মন্দিরের নিয়মকানুন নিয়ে পূর্বতন জেলা শাসক বিধান রায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছিলেন। কিছু সময় সেই নিয়ম মেনে চললেও পরবর্তীকালে ফের মন্দিরের সেবাইতদের নিজস্ব নিয়মে ফিরে যায় পরিচালন ব্যবস্থা। বর্তমানে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ভক্তদের দানে পাওয়া এই অর্থ পুরোপুরি মন্দিরের উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করার কাজে লাগানো হবে। তবে অতীতে কেন এমন আর্থিক বেনিয়ম বা বিলম্ব ঘটল, তার উত্তর খুঁজছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। আড়াই কোটি টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে ফিরে আসায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, কুণ্ড সংস্কারের খরচ নিয়ে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে এখন সকলে।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *