মা কাটতেন আখ, ছেলে লিখতেন স্বপ্ন! ৩০ বার ব্যর্থ হয়েও কীভাবে UPSC জয় প্রবীণের?

সাফল্যের গল্প সব সময় ঝকঝকে কোচিং সেন্টার বা সুযোগ-সুবিধায় ভরা ঘর থেকে শুরু হয় না। কখনও কখনও সাফল্যের জন্ম হয় ধুলোয় ভরা গ্রামের রাস্তায়, চরম অভাবের সংসারে আর এক মায়ের নিঃশব্দ আত্মত্যাগের মধ্যে। মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার ছোট্ট গ্রাম মিটকির বাসিন্দা কোলাপে প্রবীণ উত্তমরাওয়ের জীবন যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ। ৩০টিরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং চরম দারিদ্র্যকে জয় করে শেষ পর্যন্ত UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় (২০২৫) সর্বভারতীয় স্তরে ৫৮৪ র্যাঙ্ক অর্জন করে ইতিহাস গড়লেন তিনি।
সাত বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম:
প্রবীণের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৯ সালে রোহিত শর্মার একটি ইনিংস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে UPSC-র স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তিনি। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথ ছিল কাঁটায় ভরা। পর পর চারবার UPSC প্রিলিমসে ব্যর্থ হন প্রবীণ। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং, SSC ও রাজ্য স্তরের ৩০টিরও বেশি পরীক্ষায় বসেও মেলেনি সাফল্য।
মায়ের লড়াই ও বাবার ছায়া:
মহামারীর সময় কিডনির অসুখে বাবাকে হারান প্রবীণ। তখন পরিবারে চরম অনটন। প্রবীণের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁর মা আখ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বছরের ছয় মাস দূরের এলাকায় গিয়ে আখ কাটা এবং বাকি সময় অন্যের জমিতে দিনমজুর খেটে ছেলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এই অকুতোভয় মা। প্রবীণ জানান, তিনি যখন লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করতেন, তখন তাঁর মা রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতেন।
কোচিং ছাড়াই বাজিমাত:
দিল্লি বা পুনের নামী কোচিং সেন্টারে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না প্রবীণের। সাধারণ লাইব্রেরিতে বসেই নিজের ভুলগুলো নিজে বিশ্লেষণ করতেন তিনি। দামি টেস্ট সিরিজ নয়, সাধারণ কাগজের ওপরই উত্তর লেখার অনুশীলন করতেন। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও নিজের প্রস্তুতির পদ্ধতি বদলেছেন, কিন্তু লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসেননি।
সাফল্যের খবর যখন পৌঁছাল মাঠে:
ফলাফল প্রকাশের দিনও প্রবীণের মা বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তখন অন্যের জমিতে গম কাটার কাজে ব্যস্ত। সেখানেই মায়ের কাছে ছুটে গিয়ে প্রবীণ যখন সফল হওয়ার খবর দিলেন, তখন যেন সাত বছরের পরিশ্রমের সার্থকতা খুঁজে পেলেন মা ও ছেলে।
প্রবীণের এই সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষা পাশের গল্প নয়, এটি হলো অদম্য জেদ আর এক মায়ের আত্মত্যাগের দলিল। দামি কোচিং বা বিপুল অর্থ ছাড়াই যে একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়, প্রবীণ আজ ভারতের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে সেই অনুপ্রেরণাই হয়ে রইলেন।