১৭ বছরের দাম্পত্য, ৩ সন্তানের মা! সংসার সামলে ‘মিসেস বিহার’ হয়ে চমকে দিলেন সোনি

১৭ বছরের বিবাহিত জীবন, তিন সন্তানের দায়িত্ব আর একটি স্কুলের পরিচালনার ব্যস্ততা—এই কঠোর রুটিনের মাঝেও যে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, তা প্রমাণ করলেন মুজাফফরপুরের পুত্রবধূ সোনি গুপ্তা। রাজধানী পাটনায় আয়োজিত অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক ‘মিসেস বিহার ২০২৬’ আসরে সেরার মুকুট জিতে তিনি এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তীব্র লড়াইয়ের জয়:
পাটনার পানাশ কৌটিল্য হোটেলে অনুষ্ঠিত এই গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০ জন বিবাহিত মহিলা অংশ নিয়েছিলেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে দাঁড়িয়ে সোনি গুপ্তা বিচারকদের মুগ্ধ করে বিজয়ীর ট্রফি ছিনিয়ে নেন। তাঁকে মুকুট পরিয়ে দেন ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড ২০২৫’ সরগম কৌশল। এছাড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়েছেন নেহা দে এবং দ্বিতীয় রানার-আপ জ্যোতি পাঠক। পুরস্কার হিসেবে সোনিকে ৫০,০০০ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

১৫ দিনের কঠোর প্রস্তুতি:
সোনি গুপ্তার কাছে এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। জীবনে এই প্রথম কোনো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় পা রাখা। স্কুল, সংসার এবং তিন সন্তানের সামলানোর ব্যস্ততার মাঝেই মাত্র ১৫ দিনের কঠোর প্রশিক্ষণে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন তিনি। ব্যক্তিত্ব, মঞ্চে হাঁটা এবং কথা বলার দক্ষতার ওপর তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রমই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

স্বামীই যখন প্রধান অনুপ্রেরণা:
সোনি জানান, প্রথমদিকে তাঁর চিকিৎসক স্বামী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে একেবারেই রাজি ছিলেন না। কিন্তু নিজের স্বপ্নের গুরুত্ব বোঝানোর পর স্বামীর মনোভাব বদলে যায়। শুধু তাই নয়, পুরো যাত্রাপথে স্বামী তাঁর ঢাল হয়ে পাশে থেকেছেন।

আগামীর লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চ:
নিজের এই সাফল্য সমাজের সেই সব নারীদের উৎসর্গ করেছেন সোনি, যারা বিয়ের পর নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেন। এখন তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ভবিষ্যতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চান। পাশাপাশি সুযোগ পেলে চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনের জগতেও নিজের প্রতিভা মেলে ধরার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোনি গুপ্তার এই জয় আজ মুজাফফরপুরসহ পুরো বিহারের নারীদের জন্য এক নতুন দিশা দেখাল। তিনি প্রমাণ করলেন, সঠিক মানসিকতা ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে বয়সের কাঁটা বা পারিবারিক দায়িত্ব কোনোটিই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *