স্বামী ও দুই সন্তান ফেলে প্রেমিকের গলায় মালা! সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দেখে হতবাক স্বামী

দীর্ঘ দুই দশকের সাজানো সংসার। দুই সন্তানের জননী হয়েও স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন সংসার পাতলেন স্ত্রী। হরিয়ানার হিসার জেলার এই ঘটনাটি সামাজিক ও আইনি পরিমণ্ডলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রতারিত স্বামী মনীশ কুমার এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সুবিচারের আশায়।
ঘটনার সূত্রপাত:
২০০৬ সালের ২ নভেম্বর হিন্দু রীতি মেনে মনীশ কুমার (৪৫) ও রেখার (৩৫) বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন তারা সুখে সংসার করার পর, ২০২৩ সালে কাজের প্রয়োজনে পরিবারসহ মনীশ ভিওয়ানির সিওয়ানিতে চলে আসেন। অভিযোগ, এই সুযোগেই সতীশ নামে এক ব্যক্তি তাদের সংসারে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে এবং রেখার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরা পড়া সত্য:
২০২৫ সালের নভেম্বরে রেখা কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। স্বামী মনীশ সিওয়ানি থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ১ ডিসেম্বর। নিজের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখে মনীশ জানতে পারেন, রাজস্থানের চুরু জেলার একটি মন্দিরে সতীশকে বিয়ে করছেন তার স্ত্রী।
মন্দিরে গিয়েও চরম অপমান:
খবর পাওয়ার পরপরই বৃদ্ধা মা ও দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মনীশ রাজস্থানের ওই মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে তিনি নিজের চোখে দেখতে পান, স্ত্রী রেখা ও সতীশ বিয়ের রীতিনীতি পালন করছেন। মনীশ প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং জোর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
আর্থিক প্রতারণা ও গৃহহীন পরিবার:
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এটি কেবল একটি বিবাহবিচ্ছেদ নয়, বরং একটি বড় আর্থিক ষড়যন্ত্র। প্রতারণার মাধ্যমে তার ছয় কানাল জমি ও বাড়ি বিক্রি করিয়ে সেই অর্থ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে বৃদ্ধা মা ও দুই সন্তান নিয়ে মনীশ এখন সর্বস্বান্ত। মানসিক ধাক্কায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
আদালতের কঠোর অবস্থান:
হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর, আইনজীবী সন্দীপ শোরানের মাধ্যমে মনীশ হিসার আদালতে একটি মামলা (ইস্তগাসে) দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেএমআইসি অজিতপাল সিং-এর আদালত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। অভিযুক্ত স্ত্রী রেখা, তার প্রেমিক সতীশ, শ্বশুরবাড়ির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ২০২৬ সালের ২৫শে নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে।