‘ওদের মাথায় ডিম ফাটান!’ বারুইপুর এনকাউন্টার ইস্যুতে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। একদিকে নির্যাতিতার পরিবার পুলিশের পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করলেও, অন্যদিকে শুরু হয়েছে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার রাজ্য সরকারের ভূমিকা ও বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
‘সমাজ বিরোধীদের পাশে কমিউনিস্টরা’
বারুইপুর এনকাউন্টার ইস্যুতে বামপন্থী আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির সমালোচনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “এরা সমাজবিরোধী। সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে চিরকালই কমিউনিস্ট ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা দাঁড়িয়েছে। এদের লক্ষ্য শুধু নিজের নাম ও ইমেজ বজায় রাখা। অপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়, আবার সেই অপরাধী যখন সাজা পায়, তখনও এরা আন্দোলনের নামে বাধা দেয়।”
‘মাথায় ডিম ফাটান’
এনকাউন্টারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে দিলীপ ঘোষের নিদান, “এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম ফাটান। এদের বুঝিয়ে দিন যে, অপরাধী এবং অপরাধের পক্ষ নেওয়া—দুটোই সমান অপরাধ। এদের একই ট্রিটমেন্ট দেওয়া উচিত।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রতিপক্ষের দিকে ডিম ছোড়ার যে সংস্কৃতি বাংলায় মাথাচাড়া দিয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূল ও বামেরা সরব হলেও, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দলের অবস্থানের সঙ্গে অমিল?
তবে দিলীপ ঘোষের এই ‘ডিম’ নিদান নিয়ে দলের অন্দরেও অস্বস্তি রয়েছে। বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারেবারেই দলীয় কর্মীদের ডিম ছোড়ার মতো কুরুচিকর সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিজেপি এই ধরনের হিংসাত্মক বা অসম্মানজনক সংস্কৃতি সমর্থন করে না। কিন্তু শমীকের সেই বার্তার পরেও দিলীপ ঘোষের এদিনের বক্তব্য প্রমাণ করল, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশকে উপেক্ষা করে নিচুতলার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি নিজের অবস্থানেই অনড়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারুইপুর কাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবিতে একদিকে যেমন জনমত তৈরি হয়েছে, তেমনই পুলিশি এনকাউন্টার নিয়ে সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ। আর এই দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের এই ঝাঁঝালো মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।