মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা! ইরান-মার্কিন সংঘর্ষবিরতি ভেঙে তীব্র হামলার নির্দেশ ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের ঘনিয়ে এল যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সংঘর্ষবিরতি বা সমঝোতা চুক্তি ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই বুধবার মধ্যরাতে ইরানের একাধিক শহর লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত। এই হামলার পালটা জবাব হিসেবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
ট্রাম্পের হুঙ্কার: “আর কোনো চুক্তি নয়”
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তিতে যেতে তিনি আগ্রহী নন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই চুক্তি শেষ। আমি এদের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাই না।” ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আমেরিকার স্বার্থে যেকোনো পর্যায়ে হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
মার্কিন বাহিনীর বড় অভিযান
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দক্ষিণ ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। হামলায় ইরানের আব্বাস বন্দর, সিরিক, কোনারক এবং চাবাহার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর।
ইরানের পাল্টা আঘাত
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে ইরানে শোকের আবহ চলছে। এর মধ্যেই এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বজুড়ে এই যুদ্ধের আঁচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।