ইরানের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন! ট্রাম্পের হুঙ্কার, “তারা আমাকেও হত্যার ছক কষছে!”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। আঙ্কারায় নাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক ঘোষণায় ইরানের সাথে হওয়া শান্তি চুক্তি বাতিলের কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা বা চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ক্ষোভের সুরে বলেন, “ইরান আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা শুধু চুক্তির শর্তই ভঙ্গ করেনি, বরং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টাও করছে। তারা কাউকে ছাড় দেয় না, আর আমরাও চুপ থাকব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করাই আমাদের এখন মূল লক্ষ্য এবং খুব দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।”
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার জেরে এই সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে:
-
জাহাজ হামলা: মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে কাতারি ও সৌদি জাহাজের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত।
-
পাল্টা আঘাত: ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
-
শর্ত লঙ্ঘন: কাতার জানিয়েছে, ৬০ দিন কোনো জাহাজে হামলা না করার যে প্রতিশ্রুতি ইরান দিয়েছিল, তা তারা ভঙ্গ করেছে।
তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার মানতে নারাজ ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।”
আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের জানাজায় ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে স্লোগান এবং ফতোয়া জারির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প এদিন ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপরও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তার দাবি, সন্ত্রাস দমনে মিত্ররা আশানুরূপ সহযোগিতা করছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধের ঝুঁকি প্রকট হয়ে উঠেছে। পুরো বিশ্ব এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।