চটকলের পর এবার পাটচাষে সাফল্য, বাংলার কৃষকদের ঘরে এল লক্ষ্মী

 রাজ্যের চটকলগুলো পুনরায় সচল হওয়ার পাশাপাশি এবার পাটচাষিদের মুখেও চওড়া হাসি। চলতি মরসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং বাজারের উচ্চমূল্যের কারণে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরেছে রাজ্যের পাটচাষিদের জীবনে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পাটের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি করছেন চাষিরা।

কেন এই দাম বৃদ্ধি? সাধারণত বাজারে পাটের দাম কুইন্টাল প্রতি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার আশেপাশে থাকলেও, এবছর সেই দাম ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার চাষিদের কথায়, কেজিপ্রতি তারা ১৪০-১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম পাচ্ছেন, যা অন্য বছর বড়জোর ৭০-৮০ টাকা থাকে।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সমীকরণ। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকে পাটের আমদানি বর্তমানে বাধাগ্রস্ত। বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারত সরকার অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় পাট রফতানি প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাজারে দেশি পাটের এই টান থাকাতেই স্থানীয় পাটচাষিরা অভূতপূর্ব দাম পাচ্ছেন।

কোথায় কতটা চাষ? মুর্শিদাবাদ পাটচাষের জন্য রাজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরসুমে মুর্শিদাবাদের নওদা, হরিহরপাড়া, বহরমপুর, কান্দি, জলঙ্গি ও ডোমকল সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এছাড়া নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।

আবহাওয়া ও সাফল্যের চাবিকাঠি: কৃষকদের মতে, জুন মাসে গরমের পর কালবৈশাখীর বৃষ্টি পাটের ফলনে জাদুর মতো কাজ করেছে। সঠিক সময়ে জলের জোগান পাওয়ায় পাটের মান ও পরিমাণ—দুইই বেড়েছে। এছাড়া কিছু ব্যবসায়ীর পাট মজুত করার প্রবণতাও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা রাখছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাটের এই উচ্চমূল্য বজায় থাকবে বলে আশাবাদী কৃষকরা। পাটচকল খোলার পাশাপাশি কৃষকদের এই বাড়তি রোজগার রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *