পাল্টা রাজনৈতিক তরজা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদকে ‘স্ট্রিট ড্রামা’ বলে কটাক্ষ মন্ত্রীর

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোমবাতি মিছিলকে ‘রাস্তায় নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

দিলীপ ঘোষের তোপ: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “মানুষ ওঁকে বিরোধী আসনে বসার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু উনি এতটাই জনপ্রিয় যে নিজেই ভোটে জিততে পারেননি। এখন রাস্তায় নেমে নাটক করছেন। সারাজীবন তো প্রতিবাদই করেছেন, কিন্তু নিজের শাসনকালে যখন রাজ্যে হাজার হাজার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে, তখন তো ওঁকে কখনও পথে নামতে বা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখিনি!”

তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ: দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল থেকেই সেখানে যেতে চাইছিলেন, কিন্তু পুলিশ গৃহবন্দীর মতো পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। তৃণমূল সবসময়ই ওই পরিবারের পাশে রয়েছে।”

আদালতের অনুমতি ও পরবর্তী কর্মসূচি: এদিকে, বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন একটি মিছিলের আয়োজন করেছে। এই মিছিলের জন্য কলকাতা হাইকোর্ট অনুমতি দিয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর ২:৩০ থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড ক্রসিং পর্যন্ত এই মিছিল চলবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মিছিলে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও তৃণমূল সূত্রে খবর।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বারুইপুরের ঘটনাটি এখন শুধু অপরাধ নয়, রাজনৈতিক প্রতিবাদেরও মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *