অজুহাত মানবেন না মুখ্যমন্ত্রী! বারুইপুরকাণ্ডে তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ডের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের অফিসে নির্যাতিতা পরিবারের সাথে দেখা করার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশ অফিসারদের রীতিমতো ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ডিজিপি-কে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা আতসকাচের নিচে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ডিজিপি-কে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। উনি ঘটনার সামগ্রিক রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্টে পুলিশের কাজের কোনো পর্যায়ে যদি ১ শতাংশও শিথিলতা বা গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পুলিশের ‘অজুহাত’ খারিজ: সূত্রের খবর, বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়ি না থাকা বা পরিকাঠামোর অভাবের মতো কিছু অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাতেই চটে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, “এই ধরনের অজুহাত আমার কাছে দাঁড় করাবেন না। আমি নতুন প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছি না, এইসব বলে নিজেদের ভুল ঢাকতে আসবেন না।” সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে ওসি ও অতিরিক্ত এসপি-সহ তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা তিনদিন সময় চেয়ে নেওয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও বার্তা:

  • আউটপোস্ট: সূর্যপুর এলাকায় অবিলম্বে নতুন পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • গণপিটুনি ও উস্কানি: নাবালিকার মৃত্যুর পর যে গণপিটুনি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনায় জড়িতদের এবং যারা নেপথ্যে থেকে উস্কানি দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • কড়া বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “অতীতের সাথে এই আমলের তুলনা করবেন না। পুলিশ যেমন আক্রান্ত হবে না, তেমনি পুলিশের গাফিলতিতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

বারুইপুরকাণ্ডে সরকার যে কোনো অবস্থাতেই অভিযুক্তদের রেয়াত করতে নারাজ, আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান সেই বার্তাই পরিষ্কার করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *