‘পাড়ায় পাড়ায় প্যারেড বন্ধ করুন!’ শওকত মোল্লা মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের

তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা ক্রিমিনাল কেস খারিজের আর্জি নাকচ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এই রায়ের পাশাপাশি পুলিশের আচরণ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, আইন অনুযায়ী বিচার চলুক, কিন্তু ধৃতকে নিয়ে ‘প্যারেড’ করানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

কেন খারিজ হয়নি আর্জি?
এদিন শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে যে ধরণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে এই পর্যায়ে এসে সরাসরি ক্রিমিনাল কেস খারিজ করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে অভিযুক্তের কাছে অন্য আদালতে আবেদন করার আইনি সুযোগ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।

মানবিকতায় আদালতের বার্তা:
রায় ঘোষণার সময় আদালতের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ ছিল পুলিশের কর্মপদ্ধতি নিয়ে। জীবনতলা বাজারের মধ্য দিয়ে বিস্ফোরণ মামলার রিকনস্ট্রাকশন করতে গিয়ে শওকত মোল্লাকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আগেও সরব হয়েছিল আদালত। এদিন বিচারপতি পুনরাবৃত্তি করে বলেন, “আইন মেনেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার হোক। কিন্তু মানবিক কারণেই পাড়ায় পাড়ায় তাঁকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা প্যারেড করানো বন্ধ করা উচিত।” আদালত মনে করছে, এই ধরণের আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

মামলার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য যে, ৬ জুন ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ (NIA) শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সাত বছর আগের একটি ধর্ষণ মামলায় জীবনতলা থানার পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। এরপর ২০১৯ সালের আরও একটি ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে শওকতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সব মিলিয়ে একাধিক আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন ভাঙড়ের এই বিধায়ক।

তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাঁকে জনসমক্ষে ঘোরালে তা নিয়ে শওকত মোল্লা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতির আজকের নির্দেশ পুলিশ প্রশাসনের জন্য কার্যত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আইনি লড়াই জারি থাকলেও, বিধায়কের প্রতি পুলিশের এই আচরণ নিয়ে আদালতের এই কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *