শাস্ত্র মেনেই রথযাত্রা! বিশ্বজুড়ে ইসকনের অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা চাইলেন পুরীর গজপতি মহারাজা

রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি জগন্নাথ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই উৎসব পালনের তারিখ নিয়ে এবার ইসকন (ISKCON)-এর সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়াল পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসন। শাস্ত্রমত উপেক্ষা করে সুবিধামতো দিনে রথযাত্রা ও স্নানযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ তুলে ইসকনের গভর্নিং বডি কমিশন (GBC)-এর চেয়ারম্যানকে কড়া চিঠি পাঠালেন পুরীর গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব।
মূল বিতর্কের জায়গাগুলো:
তিথি লঙ্ঘন: পুরীর গজপতি মহারাজার অভিযোগ, আষাঢ় শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথি ছাড়া অন্য যেকোনো দিন রথযাত্রা পালন করা হিন্দু শাস্ত্র ও প্রাচীন ঐতিহ্যের পরিপন্থী। কিন্তু অভিযোগ, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, সিডনি ও নাইরোবির মতো শহরে সেই তিথির তোয়াক্কা না করেই রথযাত্রা পালন করা হয়েছে।
স্নানযাত্রার তারিখ: কেবল রথযাত্রা নয়, স্নানযাত্রার তারিখ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন মহারাজা। তিনি জানিয়েছেন, পূর্বের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার বাইরে অন্যান্য দিনে স্নানযাত্রা পালন করছে ইসকন।
মধ্যপ্রদেশের কর্মসূচি: সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ৬৬টি জায়গায় রথযাত্রার যে পরিকল্পনা ইসকন নিয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, রথযাত্রা একটি নয় দিনের শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান, যা নির্দিষ্ট দিনে শুরু হওয়া বাঞ্ছনীয়।
মহারাজার যুক্তি ও শাস্ত্রিয় নির্দেশ:
নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে স্কন্দ পুরাণের উল্লেখ করেছেন গজপতি মহারাজা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার দিন স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ নির্ধারণ করেছেন। তাই স্থানীয় পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে এই সনাতন রীতির পরিবর্তন করা জগন্নাথ ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত করার শামিল।
ইসকনের পাল্টা যুক্তি:
পুরীর মন্দির প্রশাসনের এমন অভিযোগের উত্তরে ইসকনের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতি, সরকারি বিধিনিষেধ এবং স্থানীয় আইন মেনে রথযাত্রা আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশে প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য শাস্ত্রে নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠান করা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দিন নির্ধারণ করতে হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এবার আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন মহারাজ। তবে ১৬ জুলাই পুরীর মূল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এই সংঘাত কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর এখন ভক্তমহলের।