বারুইপুর কাণ্ডে বড় সাফল্য! গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত-সহ পাঁচজন, তদন্তে ৬ সদস্যের SIT

বারুইপুরের ১২ বছর বয়সি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অবশেষে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের খাটের নিচ থেকে লুকিয়ে থাকা মূল অভিযুক্ত-সহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট পাঁচজনকেই হেফাজতে নিল পুলিশ।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের আপডেট:
গ্রেপ্তার: ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। সোমবার দুপুরেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সরদারকে গ্রেপ্তারের পর, রাতে আরও তিনজনকে হাসপাতালের ক্যাম্প থেকে পাকড়াও করা হয়। এর আগে রবিবার ও সোমবার মিলিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অর্থাৎ, অভিযুক্ত পাঁচজনই এখন পুলিশের কব্জায়।

SIT গঠন: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর থানা এলাকায় BNS-এর ১৬৩ নম্বর ধারা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

জাতীয় মহিলা কমিশনের কড়া নির্দেশ:
এই জঘন্য ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি (DGP)-র কাছে সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট (ATR) তলব করেছে কমিশন। রিপোর্টটিতে এফআইআর, গ্রেপ্তার, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরিবারের নিরাপত্তায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক তৎপরতা:
মঙ্গলবার সকালেই বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল বারুইপুরে পৌঁছেছে। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এলাকা উত্তপ্ত থাকায় এবং জনরোষের আশঙ্কায় সেখানে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *