বারুইপুরের নৃশংসতায় উত্তাল রাজ্য! মমতার মিছিল, পাল্টা রাজনৈতিক তরজায় তুঙ্গে চাপানউতোর

বারুইপুরের এক ১২ বছরের কিশোরীর মর্মান্তিক নৃশংসতায় কেঁপে উঠল রাজ্য। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে বিচারের দাবিতে সরব বিরোধীরা, অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাগযুদ্ধ।
মমতার অভিযোগ ও কর্মসূচি
সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে মোমবাতি মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগান ওঠে মিছিলে। এর আগে রবিবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তিনি নিহত নাবালিকার পরিবারের সাথে দেখা করতে যেতে চাইলে তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমি একাই যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সেখানে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে আমাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।”
শাসকদলের পাল্টা দাবি
সোমবার বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয় কালীঘাট তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। বারুইপুর পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “রাস্তায় প্রতি পয়েন্টে আমাদের গাড়ি আটকানো হয়েছে। পুলিশ খুঁজে দেখছিল গাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন কি না।”
বিরোধীদের আক্রমণ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিজেপি ও সিপিএম। তৃণমূলের প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল নেতারা যেভাবে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন, তাতে তাঁদের অসম্মানিত হওয়ার ভয় আছে। তাই পুলিশ নিরাপত্তার খাতিরেই তাদের আটকে থাকতে পারে।”
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “অভয়ার সময়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া মানুষেরা আজ হঠাৎ শোকাতুর। আসলে তারা সেখানে গিয়ে নাটকের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।”
অন্যদিকে, সোমবার বারুইপুর থানার বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সিপিএমের যুব সংগঠন। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “গোটা রাজ্যের মানুষ এই নৃশংসতার বিচার চাইছে। আমরা এই লড়াই শেষ দেখে ছাড়ব।”
আগামী মঙ্গলবার বারুইপুরে ঋতব্রত ও তৃণমূল নেতাদের যাওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল।