মধ্যপ্রাচ্যে ফের বারুদের গন্ধ! ইরানকে ‘কাজ শেষ’ করার কড়া হুমকি ট্রাম্পের

প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর শেষকৃত্য এবং রাষ্ট্রীয় শোকের আবহেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে একের পর এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা, “আমেরিকা হয় ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছবে, নয়তো ‘কাজ শেষ’ করে দেবে।”
‘এক ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসের ক্ষমতা’: ট্রাম্প
ওভাল অফিস থেকে সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনরায় তাঁর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই তাঁর লক্ষ্য, কারণ তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে চান না। তবে তিনি এও যোগ করেন, যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে আমেরিকা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, “আমরা চাইলে সব শেষ করে দিতে পারি, তবে আমি আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি মেটাতে আগ্রহী।”
খামেনেইর শেষকৃত্য ও ইরানের প্রতিক্রিয়া:
আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ৯ জুলাই। এই শোকের দিনেও ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য ইরানের শাসক মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, খামেনেইর শেষকৃত্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা যখন একত্রিত হয়েছিলেন, তখন চাইলে তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো সম্ভব ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি।
ইরানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এক বার্তায় পাল্টা দেওয়া হয়েছে, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। খামেনেইর আদর্শ আরও শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়বে।”
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া সংঘর্ষবিরতি ও গত ১৭ জুনের ‘ইসলামাবাদ মেমোরান্ডাম’ সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। যদিও দুই দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির কথা বলছে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই কূটনৈতিক আলোচনার পথকে কতটা মসৃণ রাখবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে পুরো বিশ্ব। আমেরিকা ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায় কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।