ফের ছাঁটাইয়ের কোপ! এআই-এর পাল্লায় পড়ে মাইক্রোসফটে চাকরি খোয়াতে চলেছেন ৪,৮০০ কর্মী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জয়জয়কারের মাঝেই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক অব্যাহত। এবার বড়সড় ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। রয়টার্স সূত্রে খবর, বিশ্বজুড়ে তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২.১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪,৮০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
মাইক্রোসফটের মতো একটি সংস্থার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে: এআই-তে বিপুল বিনিয়োগ এবং শেয়ার বাজারে ক্রমাগত খারাপ পারফরম্যান্স। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংস্থার শেয়ারের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ২০২২ সালের পর তাদের সবথেকে খারাপ সময়। সংস্থাটি প্রতি বছর জুনে অর্থবর্ষ শেষে কর্মীবাহিনীর পর্যালোচনা করে। সেই কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই ছাঁটাই বলে জানা গিয়েছে।

প্রযুক্তি দুনিয়ায় ছাঁটাইয়ের হিড়িক:
মাইক্রোসফট একা নয়, অ্যামাজন ও মেটা-র মতো दिग्गज সংস্থাও চলতি বছরে হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-তে বিনিয়োগের পেছনে সংস্থাগুলো যে বিপুল অর্থ খরচ করছে, তার রিটার্ন বা লাভ আসতে সময় লাগছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির এআই-সংক্রান্ত মোট বিনিয়োগ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতেই মূলত কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাগুলো।

আয় বনাম ব্যয়—দ্বন্দ্ব কোথায়?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজ়ুর’ (Azure) ক্লাউড ব্যবসা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওপেনএআই (OpenAI)-এর মডেল বিক্রির একচেটিয়া অধিকার থাকায় সংস্থার আয় বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ডেটা সেন্টারগুলিতে। এই বিপুল ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। আয়ের সাথে ব্যয়ের হিসেব মেলাতেই এখন খরচ কমানোর উপর জোর দিচ্ছে মাইক্রোসফট।

ভবিষ্যৎ কী?
চলতি বছরের গোড়াতেই আমেরিকার ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের (Voluntary Buyout) প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। এবার ৪,৮০০ কর্মীর ছাঁটাইয়ের খবর প্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর প্রতি এই দৌড় যতদিন না মুনাফায় পরিণত হচ্ছে, ততদিন কর্মক্ষেত্রে এই অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *