মধ্যপ্রাচ্যে ফের বারুদের গন্ধ! হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কাঠগড়ায় ইরান

ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি। হরমুজ প্রণালীতে পর পর দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর বিরুদ্ধে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় জাহাজ দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
চুক্তি কি তবে অর্থহীন?
এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে আমেরিকার সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করেছিল তেহরান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে কোনো প্রকার হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। পাশাপাশি, কাতারের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক সপ্তাহের যে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
ওমান উপকূলে রহস্যময় আগুন:
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নয়, মঙ্গলবার ভোরে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন লাগে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর দাবি, কোনো একটি ‘প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার পরই ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। যদিও কোনো দেশ বা সংগঠন এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সন্দেহভাজন তালিকায় ফের ইরানের নামই উঠে আসছে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ:
সাম্প্রতিক দিনগুলিতে একই রুটে আরও দু’টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পর পর বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেল ট্যাঙ্কারে হামলার ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের উপর কড়া হুঁশিয়ারি আসায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বা বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।