১০ হাজার টাকার বিনিময়ে অপহরণ! বারুইপুর খুনের ঘটনায় পাচার চক্রের যোগ নিয়ে শিউরে উঠা তথ্য প্রকাশ্যে

বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর জেরায় ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা এখন এই ঘটনার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত মানবপাচার চক্রের (Human Trafficking Ring) যোগসাজশ খুঁজে পাচ্ছেন। তদন্তে সাহায্যের জন্য যুক্ত হয়েছে রাজ্য পুলিশের ‘অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টিম’।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
-
প্রলোভন ও ষড়যন্ত্র: মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার গত ১০-১২ দিন ধরে ওই নাবালিকার ওপর নজর রাখছিল। তদন্তে জানা গেছে, আনন্দ প্রভাস নামে এক ব্যক্তিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, সে যদি নাবালিকাকে বুঝিয়ে বা ফুসলিয়ে অপহরণ করে আনতে পারে, তবে তাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সেই প্রলোভনেই প্রভাস কাজ হাসিল করে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
-
বন্দি দশা ও মদ্যপানের আসর: নাবালিকাকে অপহরণের পর একটি ঘরে আটকে রাখা হয় এবং তাঁর হাত বেঁধে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই ঘরেই অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার, প্রভাসসহ মোট পাঁচজন মিলে মদ্যপানের আসর বসিয়েছিল। এই সময়পর্বেই নাবালিকার ওপর নারকীয় নির্যাতন চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ধৃতদের বয়ান যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। মূলত পাচার করার উদ্দেশ্যেই এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং এই চক্রটি কতটা গভীরে বিস্তৃত, সেই বিষয়টি খুঁজে বের করতে তৎপর সিট।
বারুইপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্তকারী দল জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।