এবার বাতিল হবে রেশন কার্ড, জেনেনিন কাদের নাম বাদ পড়তে পারে?

পশ্চিমবঙ্গের রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং ভুয়ো কার্ড চিহ্নিত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে সরকার। রাজ্যের কয়েক কোটি রেশন প্রাপকের তালিকায় থাকা ‘অযোগ্য’ বা ভুয়ো কার্ডধারীদের বাদ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায় থাকা অযোগ্য ব্যক্তিদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া যাবে না, এমনটাই সাফ জানিয়েছেন তিনি।
রেশন প্রাপকের পরিসংখ্যান ২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট রেশন প্রাপকের সংখ্যা ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৩২ জন। এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে এএওয়াই (AAY), পিএইচএইচ (PHH), এসপিএইচএইচ (SPHH) এবং আরকেএসওয়াই (RKSY)—এই চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। সরকারের দাবি, এই সুবিশাল তালিকার মধ্যে এমন অনেক নাম রয়েছে, যাঁরা আদতে নিয়ম অনুযায়ী রেশন পাওয়ার যোগ্য নন।
কাদের রেশন কার্ড বাতিলের সম্ভাবনা? রেশন তালিকা ‘ক্লিন’ করতে খাদ্য দফতর বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি ঠিক করেছে। যে কার্ডগুলো এখন খাদ্য দফতরের রাডারে রয়েছে:
-
অভারতীয়দের কার্ড: যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, তাঁদের রেশন কার্ড বাতিল করা হবে। এই কাজে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের এসআইআর (SIR) লিস্টকে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে প্রশাসন।
-
সন্দেহভাজন কার্ড: সাধারণত জন্মের ৫ বছরের মধ্যে রেশন কার্ড তৈরির নিয়ম থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে অনেক বয়সে কার্ড তৈরি হয়েছে। এই ধরনের প্রতিটি কার্ডই এখন কঠোর ভেরিফিকেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।
কীভাবে চলছে যাচাইয়ের কাজ? রাজ্যজুড়ে রেশন কার্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, কেবল পোর্টালে তথ্য যাচাই নয়, বরং সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রথম ধাপে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায়। প্রথম দফার এই কাজ শেষ হলে অন্যান্য জেলাতেও এই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাপকদের উদ্দেশ্যে: সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বৈধ প্রাপকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে যাঁদের কার্ডে কোনো গরমিল রয়েছে বা যাঁদের কার্ড নিয়ে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে, তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।