তারাতলা কাণ্ড: ১৬ জনের মৃত্যুর রহস্যভেদ! যাদবপুরের ল্যাবে পৌঁছাল ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনার’ নমুনা

গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৬ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন গতি। দুর্ঘটনার কারণ এবং নেপথ্যের সত্য উদঘাটনে ঘটনার ১০ দিন পর বড় পদক্ষেপ নিলেন তদন্তকারী বিশেষজ্ঞ দল। শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রে কী কী? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন, আর্কিটেকচার, সিভিল এবং মেটালার্জিক্যাল বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের দল শুক্রবার তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ঢালাইয়ের উপকরণ ও বিমের ভগ্নাংশ।

  • ব্যবহৃত নাট-বল্টুর নমুনা।

  • নির্মাণকাজের ড্রয়িং বা নকশার খসড়া।

বিশেষজ্ঞদের নজরে যা রয়েছে: তদন্তকারী দল এখন মূলত ‘পয়েন্ট অফ ফেলিওর’ বা দুর্ঘটনার উৎসস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। ঠিক কোন অংশটি আগে ভেঙে পড়েছিল এবং অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের কোনো অমিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এছাড়া নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কিংবা নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রাংশ ভুলভাবে মজুত রাখা হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তথ্যে নির্মাণের নকশায় ত্রুটির বিষয়টি উঠে এসেছে। পুরসভার কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে পুরো এলাকা এখন শোকস্তব্ধ, আর সেই শোকের মাঝেই এখন উত্তরের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্ট এই ঘটনার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *