নাগরিকত্ব প্রমাণে ১৫টি নথি পেশ, তবুও হার মানতে হলো আদালতে! গুয়াহাটি হাইকোর্টের বড় রায়

নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ১৫টি নথি জমা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। ঐতিহাসিক এক রায়ে এক ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ বলে ঘোষণা করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালতের সাফ পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র নথি জমা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের আইনি দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই।

মামলার প্রেক্ষাপট:
অসমের কামরুপ জেলার বাসিন্দা আমিনুল হককে এর আগে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ২০১৯ সালের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গুয়াহাটি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন তিনি। গত ৩০ জুন বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

কেন এই রায় দিল আদালত?
আবেদনকারী নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের স্বপক্ষে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, ২০১৭ সালের স্কুল সার্টিফিকেট, ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা এবং ১৯৫১ সালের এনআরসি (NRC) তালিকা-সহ মোট ১৫টি নথি আদালতে জমা দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর বাবার বয়ানও রেকর্ড করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনকারীর দাবি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ:

নথিতে অসামঞ্জস্য: আবেদনকারীর বাবা ও দাদুর নাম বিভিন্ন নথিতে ভিন্নভাবে লেখা রয়েছে। পরিবারটি যে বারবার গ্রাম পরিবর্তন করেছে (ডোবাকুড়া থেকে ঘুগুডোবা ও হাসডোবা), তার পক্ষে কোনো উপযুক্ত নথিভিত্তিক প্রমাণ দিতে পারেননি আবেদনকারী।

মৌখিক সাক্ষ্যের সীমাবদ্ধতা: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু মৌখিক সাক্ষ্য বা বাবার দেওয়া বয়ান সম্পর্ক প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

স্কুল সার্টিফিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা: আবেদনকারী যে স্কুল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন, সেটি ২০১৭ সালে তৈরি। সেই শংসাপত্র প্রদানকারী হেডমাস্টার আদালতে এসে সেটির সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

ফরেনার্স অ্যাক্টের ধারা: আদালত জানায়, ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৬৪-র ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যখন কারও নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়, তখন প্রমাণ করার দায়িত্ব সেই ব্যক্তিরই যে তিনি বিদেশি নন, বরং ভারতীয় নাগরিক। এই পরীক্ষায় আবেদনকারী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

উপসংহার:
আদালত জানায়, আবেদনকারী নথির দুর্বলতা ঢাকতে ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং নাম ও ঠিকানার গরমিলকে কেবল ‘ভুল’ হিসেবে দাবি করেছিলেন। কিন্তু আইনি এবং নথিভিত্তিক প্রমাণের অভাব থাকায় আদালত আবেদনকারীর ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবিকে খারিজ করে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *