১০০ কোটির সম্পত্তির মালিক কীভাবে? দেবরাজ-অদিতি দম্পতির ‘রকেট’ উত্থানের নেপথ্যে তোলাবাজি!

তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বুধবার এসটিএফ (STF)-এর হাতে দেবরাজের গ্রেফতারির পর, দম্পতির বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন করে গত কয়েক বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন তাঁরা।

কীভাবে এই সম্পত্তির পাহাড়?
আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে এই দম্পতির আয় মাত্র ১ কোটি টাকা। অথচ, ৬০-৭০ লক্ষ টাকা দামের বিলাসবহুল গাড়ি কেনা থেকে শুরু করে কলকাতা ও দার্জিলিং জুড়ে বিশাল সাম্রাজ্য—সবই এখন সন্দেহের তালিকায়। আইনজীবীদের প্রশ্ন, বেতনের সামান্য আয়ে এত বিলাসিতা কীভাবে সম্ভব?

বিজেপি বিধায়কদের বিস্ফোরক দাবি
রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, “একজন কাউন্সিলরের বেতন কতই বা হতে পারে? অথচ তাঁদের জীবনযাপন দেখে মনে হয়, টাকা কোথা থেকে আসছে তা জানার অধিকার জনগণের আছে।”

অন্যদিকে, বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, “দেবরাজ শুধু ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষের থেকে তোলাবাজি করতেন না, খোদ তৃণমূল নেতাদের থেকেও টাকা তুলতেন। ‘ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশ’—এই নাম ভাঙিয়ে দলের কর্মীদের কাছ থেকে পঞ্চায়েত ভোটের টিকিট বা অন্যান্য কাজের নাম করে তিনি মোটা টাকা আদায় করতেন।”

রাজনৈতিক উত্থান ও ডিগবাজি
২০১১ সালে তৎকালীন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর সেক্রেটারি হিসেবে কাজ শুরু করা দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবন বেশ ঘটনাবহুল। টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে একসময় কংগ্রেস যোগ দেন এবং কাউন্সিলর হন। কিন্তু ক্ষমতা ও লাভের হিসেব মেলাতে ৬ মাসের মধ্যেই কংগ্রেসে ইস্তফা দিয়ে ফের তৃণমূলে ফেরার পথ প্রশস্ত করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে ফিরে ২০২২ সালে ফের কাউন্সিলর হন এবং বিধাননগর পুরসভার মেয়র পরিষদের সদস্য ও উত্তর ২৪ পরগনার যুব তৃণমূলের সভাপতি পদও দখল করেন।

এর আগেও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন দেবরাজ। বর্তমানে এসটিএফ-এর জালে আটকে পড়া এই দম্পতির আর্থিক দুর্নীতির জাল কতটা গভীর, তা তদন্তে কী উঠে আসে সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *