‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে! ডিজিটাল কন্টেন্ট কি এবার নিয়ন্ত্রণে আসবে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্য এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারপ্রান্তে। ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ (₹370 ki Biryani) বিতর্কের সূত্র ধরে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি, পডকাস্ট এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে।
কী এই ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ক? কমেডিয়ান প্রানীত মোরের একটি লাইভ শো-তে হিমাংশু জাংরা নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, একজন মহিলাকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে তাঁর সাথে যৌন সম্পর্কের “অধিকার” জন্মেছে। এই আপত্তিকর মন্তব্যের ভিডিও নিমেষেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনাই ডিজিটাল কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
আবেদনকারীর মূল দাবিগুলো কী? আইনজীবী বিশাল তিওয়ারির দায়ের করা এই পিটিশনে কোনো নির্দিষ্ট শিল্পী বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করা হয়নি। বরং আবেদনকারীর মূল বক্তব্য হলো:
-
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম চালিত কন্টেন্ট যেভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে, তা রুখতে একটি নিয়মিত ব্যবস্থা বা রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন।
-
বিশেষজ্ঞ কমিটি: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও অবমাননাকর কন্টেন্ট তদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
-
সাংবিধানিক সুরক্ষা: শিল্প বা হাস্যরসের নামে সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে অবমাননাকর বিষয় ভাইরাল হওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা খতিয়ে দেখতে আর্জি জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় জবাবদিহিতা কি বাধ্যতামূলক? পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বিতর্কিত বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা সমাজ ও নারীর সম্মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আবেদনকারী স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা শৈল্পিক স্বাধীনতা বা ব্যঙ্গ দমনের বিরোধী নন, কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।