শুভেন্দু অধিকারীকে আম উপহার বাংলাদেশের, কূটনীতির পাতে ‘আম-ইলিশ

রাজনৈতিক উত্তাপ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেও বজায় থাকল প্রথাগত ‘আম-কূটনীতি’। বুধবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্বরূপ ১০০ কেজি আম এসে পৌঁছাল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কার্যালয়ে। মঙ্গলবার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এই আম ভারতে প্রবেশ করে এবং কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের মাধ্যমে তা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তাৎপর্যপূর্ণ সময়: দুই দেশের সম্পর্ক যখন রাজনৈতিক বাদানুবাদে সরগরম, তখন এই উপহারের ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির সাংসদ জিএম সিরাজ এবং এনসিপির চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।

আম কূটনীতির ঐতিহ্য: বিতর্কের এই আবহেও বাংলাদেশের আম পাঠানোর ঐতিহ্য বজায় রইল। বছরের পর বছর ধরে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এ রাজ্যে আম ও ইলিশ পাঠিয়ে থাকে। প্রথা অনুযায়ী এবারও সেই সৌজন্য রক্ষা করা হয়েছে। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও বাংলাদেশের পাঠানো এই আম পৌঁছেছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সরকারি স্তরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, এই ‘আম-কূটনীতি’ প্রথাগত সৌজন্য বিনিময়ের অংশ। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই দেশের মানুষের মধ্যেকার বন্ধুত্বের একটি সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ। তবে শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ বিষয়ক সাম্প্রতিক মন্তব্য যে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *