‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে ৭ লক্ষ টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার চক্রের ৩ পাণ্ডা

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা লুঠ করা সাইবার প্রতারণা চক্রের এক বড় নেটওয়ার্কের হদিস পেল পুলিশ। ৭.২২ লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও নথিপত্র।

এম.এস. নামে এক ভুক্তভোগী মহিলা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, মুম্বাই এটিএস (ATS), আইপিএস (IPS) এবং সিবিআই (CBI) আধিকারিক পরিচয় দিয়ে একদল প্রতারক দীর্ঘক্ষণ তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে ভয় দেখায়। নিজেকে আইনি বিপদে ফেলার ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা তাঁকে আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে ৭.২২ লক্ষ টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার সাউথ থানায় ই-এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।

প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রতারণার টাকা প্রথমে সমীরণ রায় ও প্রিন্স সাউ নামক দুই ব্যক্তির একটি বন্ধন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ঢোকে। পরে সেই টাকা শনাক্তকরণ এড়াতে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক সাইবার চক্রের যোগসূত্র খুঁজে পায়।

অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে সমীরণ রায় এবং হাওড়া থেকে প্রিন্স সাউ ও সমর চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা এই আন্তর্জাতিক চক্রকে সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সিম কার্ড এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করত। তাদের কাছ থেকে ৬টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, ১৮টি কার্ড এবং ১৫টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

সতর্কতা: সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলে আইনত কিছু নেই। কোনো সরকারি আধিকারিক বা পুলিশ কখনোই হোয়াটসঅ্যাপ বা ভিডিও কলে কাউকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না।

সম্পাদকীয় নোট: ডিজিটাল যুগে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল এড়িয়ে চলুন এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত ব্যাঙ্কিং তথ্য বা টাকা লেনদেন করবেন না। পুলিশের এই সাফল্য সাইবার প্রতারকদের জন্য বড় বার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *