গাড়ি দেখেই চেনা যাবে পদমর্যাদা! আমলাদের জন্য বড় নিয়ম আনল নবান্ন

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে শুরু হয়েছে সংস্কারের পালা। বিশ্ববাংলার লোগো পরিবর্তনের বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন নিয়ম চালু করল নবান্ন। এখন থেকে গাড়ি দেখেই বোঝা যাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পদমর্যাদা।
গাড়িতে বিশেষ পতাকা: কার জন্য কী নিয়ম?
নবান্নের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, পদের গুরুত্ব বুঝে আমলাদের গাড়িতে আলাদা আলাদা রঙের ও আকারের পতাকা লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
মুখ্য সচিব, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ও প্রধান সচিব: গাঢ় নীল রঙের আয়তাকার পতাকা।
সচিব ও সমমর্যাদা: দুই খাঁজযুক্ত গাঢ় নীল পতাকা।
কমিশনার ও সমমর্যাদা: ত্রিভুজাকার গাঢ় নীল পতাকা।
ডিভিশনাল কমিশনার: আয়তাকার নীল পতাকা।
জেলাশাসক (DM): ত্রিভুজাকার নীল পতাকা।
কড়া নির্দেশিকা ও ট্রাফিক নিয়ম:
শুধুমাত্র সরকারি কাজ চলাকালীনই গাড়িতে এই পতাকা রাখা যাবে। আধিকারিক গাড়িতে না থাকলে পতাকা খুলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পতাকার পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে পরিবহণ দপ্তরকে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশেষ পতাকা থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারি গাড়ি বা পতাকা থাকলেও ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে কোনো বাড়তি ছাড় পাওয়া যাবে না। সাধারণ গাড়ির মতোই তাদের আইন মানতে হবে।
তথ্য সংরক্ষণে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা:
এই পতাকা এবং পতাকাদণ্ড সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরকে। কোন আধিকারিকের কাছে কতগুলো পতাকা রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই তথ্য কলকাতা পুলিশ, পুরসভা এবং জাতীয় সড়ক পরিবহণ সংস্থার সাথেও শেয়ার করা হবে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রশাসনের কাজে শৃঙ্খলা ফেরাতেই নবান্নের এই পদক্ষেপ। তবে নতুন নিয়মের প্রয়োগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।