‘খুব শীঘ্রই আমি…’, এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন অভিনেতা জিতু কমল

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন টলিউড অভিনেতা জিতু কমল। তবে বিতর্ককে তুড়ি মেরে সবসময়ই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইন্ডাস্ট্রি ও কর্মীবান্ধব হিসেবে পরিচিত জিতু এবার সমাজসেবার জগতে আরও এক ধাপ এগিয়ে এলেন। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি গড়ে তুললেন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা—‘জিতু কমল অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্স সোশ্যাল ট্রাস্ট’।
নতুন যাত্রার সূচনা: মঙ্গলবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই এই সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন অভিনেতা। জানা গেছে, আগামী ১১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে চলেছে এই সংস্থা। টলিউডের কলাকুশলী থেকে শুরু করে সমাজের দুঃস্থ ও অভাবী মানুষ—সবার জন্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে জিতুর এই ট্রাস্ট। আইনি যাবতীয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।
কেন এই উদ্যোগ? হঠাৎ সমাজসেবার কথা মাথায় এল কেন? সংবাদমাধ্যমকে জিতু জানান, করোনা মহামারি তাঁকে মানুষের কষ্টের কথা নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল। অভিনেতার কথায়, “গত কয়েক বছরে অনুরাগীদের কাছ থেকে উপহার ও অর্থসহ অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমার মনে হয়েছে, সেই অর্জিত অর্থ যদি মানুষের উপকারে আসে, তবেই তার সার্থকতা। অন্তত কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুটলে মনটা শান্ত হয়।” স্বামী বিবেকানন্দের অমর বাণী ‘দরিদ্র সেবাই শিবের শ্রেষ্ঠ পূজা’-কে মূলমন্ত্র করেই তিনি এই পথচলা শুরু করছেন।
বিতর্কের ঊর্ধ্বে মানবিকতা: সম্প্রতি সিরিয়ালের শ্যুটিং এবং ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন আন্দোলন, এমনকি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের মতো ঘটনায় সরব হতে দেখা গেছে জিতুকে। অনেক সময় নিজের স্পষ্টবাদী মন্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখে পড়লেও, তিনি দমে যাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমেই হোক বা সরাসরি মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়ে—জিতু বুঝিয়ে দিয়েছেন, জনপ্রিয়তার চেয়েও মানুষের পাশে থাকা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাদামাটা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই নিজের এই স্বপ্নের প্রকল্পের যাত্রা শুরু করতে চাইছেন জিতু কমল। অভিনয়ের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ টলিপাড়ায় নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক নজির তৈরি করল।
সম্পাদকীয় নোট: জিতুর এই উদ্যোগ কেবল ব্যক্তিগত স্তরেই নয়, সামগ্রিক শিল্পজগতে দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।