“মুসলমানদের নিয়ে নামব, বলা ঠিক হয়নি”-ভুল স্বীকার করলেন হুমায়ুন কবীর

নিজের বিতর্কিত ‘স্যাটাভাঙা’ এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করলেন রেজিনগর ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রশাসনিক চাপে শেষ পর্যন্ত নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলেন তিনি। তবে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে উল্টে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন এই বিধায়ক।

কাশীপুরের জনসভায় হুমায়ুন কবীর মুসলিম সমাজকে নিয়ে রাস্তায় নামার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলায় এই ধরনের অরাজক মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, “আমাকে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন না। আগে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছেন, এবার আমাকে ডিল করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই হুমায়ুনের সভার আয়োজকদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

২৪ ঘণ্টায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন হুমায়ুন: বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই,” মঙ্গলবার বিকেলে সেই একই ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের সামনে সুর নরম করেন। তিনি বলেন, “আমি মুসলমানদের নিয়ে নামব বলেছিলাম। আমার এটা বলা ভুল হয়েছিল, আমি তা প্রত্যাহার করছি।” তবে একইসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক শক্তির দম্ভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, তিনি কারো দয়ায় নয়, বরং দু’লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ: মন্তব্য প্রত্যাহার করলেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “শক্তিশালী মুখ্যমন্ত্রী হলেই সংবিধানের শপথ নিয়ে তিনি যা খুশি করতে পারেন, এটা আমার জানা নেই। আমি কারো কাছে আত্মসমর্পণ করে টিকে থাকার প্রয়োজন বোধ করি না।”

আইনি জটিলতা: কাশীপুরের সভার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। আগামী ৩ জুলাই শক্তিপুর থানা এবং ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশের এই নোটিশ গ্রহণ করেছেন বিধায়ক। আগামী ৩ জুলাই তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া প্রশাসনিক বার্তার পর হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য প্রত্যাহার কার্যত পিছু হঠার ইঙ্গিত দিলেও, বিধায়কের সাম্প্রতিক সুর প্রমাণ করছে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এই সংঘাত এখনই থামার লক্ষণ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *