কিরণ খেরের ডাবিং নিয়ে বিস্ফোরক সত্য! অনুপম খেরের টাকা ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন রীতা কয়রাল?

রুপোলি পর্দার চাকচিক্যের আড়ালে যে কত অন্ধকার ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ প্রয়াত অভিনেত্রী রীতা কয়রালের সাথে ঘটে যাওয়া সেই বিতর্কিত ঘটনা। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঋতুপর্ণ ঘোষের কালজয়ী ছবি ‘বাড়িওয়ালি’ নিয়ে টলিপাড়ার অন্দরে আজও যে চর্চা চলে, তার কেন্দ্রে রয়েছে কিরণ খেরের ডাবিং সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কি ঘটেছিল সেই বিতর্কিত সময়ে?
‘বাড়িওয়ালি’ ছবির মুক্তির সময় নির্মাতাদের দাবি ছিল, কিরণ খের নাকি দিন-রাত পরিশ্রম করে বাংলা শিখে নিজেই নিজের ডাবিং করেছেন। কিন্তু বাঙালি দর্শক ও সমালোচকদের কানকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পর্দার ‘বনলতা’র কণ্ঠে কিরণ খেরের পরিবর্তে রীতা কয়রালের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট ধরা পড়েছিল। তবুও তখন মুখ খোলেননি রীতা, কারণ পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের সরাসরি নির্দেশ ছিল সত্যটি গোপন রাখার। এমনকি ঋতুপর্ণ নিজেও প্রকাশ্যে রীতার অবদান অস্বীকার করেছিলেন।
অনুপম খেরের সেই ‘হুমকি’ ও ‘টাকার অফার’:
ছবিটি যখন জাতীয় পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে যায়, তখন জুরি বোর্ডের সদস্য গৌতম ঘোষ সরাসরি ফোন করেন রীতাকে। রীতা আর সত্য গোপন করেননি, তিনি স্বীকার করে নেন যে ডাবিংটি তাঁরই করা। আর ঠিক তখনই মাঠে নামেন ছবির প্রযোজক অনুপম খের। এক সাক্ষাৎকারে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের কাছে রীতা জানিয়েছিলেন, অনুপম খের তাঁকে ফোন করে মোটা টাকার বিনিময়ে সত্যটি অস্বীকার করতে বলেন।
রীতার ভাষায়, “অনুপম আমাকে বললেন, আপনি ডাবিংয়ের পারিশ্রমিক পেয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেব। কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করবেন না যে আপনি ডাবিং করেছেন। যদি বিষয়টি ফাঁস করেন, তবে মুম্বইয়ে তো কাজ পাবেনই না, এমনকি বাংলাতেও যাতে কাজ না পান—তা নিশ্চিত করব!”
টাকা নয়, সম্মানই ছিল শেষ কথা:
হুমকি আর মোটা টাকার প্রলোভনের কাছে মাথা নত করেননি রীতা কয়রাল। জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে কিরণ খের সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পেলেও, রীতা কয়রাল পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন এক ‘নায়িকা’ হয়েই। যদিও পরবর্তীকালে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এই চরম অন্যায়ের জন্য আফসোস প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু রীতার প্রাপ্য সম্মান কোনোদিন ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।
২০১৭ সালে রীতা কয়রাল আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু আজও যখন ‘বাড়িওয়ালি’ ছবির নাম ওঠে, তখন কিরণ খেরের কণ্ঠে দর্শক শুনতে পান রীতা কয়রালের সেই বঞ্চিত ও যন্ত্রণাদগ্ধ কণ্ঠস্বর। এই ঘটনা আজও টলিপাড়ার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।