বছরে ৯.৩২ কোটির বেতন! গুগল ছেড়ে কেন এআই স্টার্টআপ শুরু করলেন এই ব্যক্তি?

আধুনিক যুগে কর্পোরেট চাকরির নিরাপত্তা যে কেবলই একটি ভ্রম—তা ফের একবার প্রমাণ করলেন ৪১ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ যুসফ ইমরান। গুগলের সিলিকন ভ্যালি হেডকোয়ার্টারে কাজ করার সময় তাঁর বাৎসরিক প্যাকেজ ছিল প্রায় ৯.৩২ কোটি টাকা (১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। কিন্তু নিজের স্বপ্নের এআই (AI) স্টার্টআপ গড়ার নেশায় তিনি তুচ্ছ করলেন এই আকাশছোঁয়া বেতনের চাকরিকে।

কেন এই বড় সিদ্ধান্ত? ২০২০ সালে গুগলের সেলস টিমে যোগ দিয়েছিলেন যুসফ। গত বছর বেসিক স্যালারির সঙ্গে భారీ সেলস কমিশন মিলিয়ে তাঁর মোট আয় পৌঁছেছিল ৯,৮৬,০০০ মার্কিন ডলারে। এত বড় অঙ্কের আয় ছেড়ে আসার পিছনে ছিল দুটি প্রধান কারণ:

  • কর্পোরেট ছাঁটাইয়ের ভয়: গুগল বা বড় বড় সংস্থায় সম্প্রতি যে ব্যাপক ছাঁটাই হয়েছে, তা তাঁকে উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে কর্পোরেট চাকরির নিরাপত্তা আদতে অনিশ্চিত।

  • এআই বুম: OpenAI এবং Anthropic-এর মতো সংস্থাগুলো যে ধরনের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করছে, তাতে নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রবল ইচ্ছাই তাঁকে এই ঝুঁকি নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

কী করছে তাঁর নতুন স্টার্টআপ? চাকরির শেষ দিনগুলোতে নিজের ছুটির সময়টুকু তিনি ব্যয় করতেন বিভিন্ন এআই মডেল নিয়ে পরীক্ষার জন্য। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তৈরি করেছেন ‘ম্যাঙ্গোস্টিন স্টুডিও’ (Mangosteen Studio)। এটি একটি সোলো-ভেঞ্চার বা একক উদ্যোগ, যা সেলস টিমগুলোকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি বা ‘ডিল ক্লোজ’ করতে সাহায্য করে।

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রির চেয়েও বড় অভিজ্ঞতা: যুসফের মতে, টেকনিক্যাল ডিগ্রি বা কম্পিউটার বিজ্ঞানের সার্টিফিকেটের চেয়েও বেশি জরুরি হলো নিজের কাজের গভীর অভিজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, আধুনিক এআই টুলস এমনভাবে তৈরি যে, ভালো আইডিয়া থাকলে যে কেউ আজ টেকনিক্যাল ফাউন্ডার হয়ে উঠতে পারেন।

গুগলের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে যুসফ ইমরানের এই যাত্রার কাহিনী এখন প্রযুক্তি বিশ্বে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই তাঁর এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানালেও, কর্পোরেট দুনিয়া ও স্টার্টআপের চিরকালীন লড়াইয়ের ছবিটাও ফের সামনে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *