মুম্বই ছাড়লেন হার্দিক পাণ্ডিয়া! চোটপ্রবণ শরীরকে ফিট রাখতে নিলেন বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত

ক্রিকেট কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করতে এবং বারবার চোটের গ্রাস থেকে বাঁচতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। এতদিন ব্যক্তিগত বা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকাঠামোয় অনুশীলন করলেও, এবার থেকে তিনি নিজের স্থায়ী ট্রেনিং বেস হিসেবে বেছে নিলেন বিসিসিআই-এর বেঙ্গালুরুর ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ (COE)-কে। প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এমন নজির গড়লেন হার্দিক।

মুম্বই ছাড়ার কারণ কী? গুজরাতের বরোদার বাসিন্দা হলেও গত কয়েক বছর হার্দিক মুম্বইয়ে থাকতেন। তবে মুম্বইয়ের ট্র্যাফিক এবং যাতায়াতের দীর্ঘ পথ তাঁর অনুশীলনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে বিশ্বমানের চিকিৎসা, রিকভারি এবং দক্ষতা উন্নয়নের সব সুবিধা এক ছাদের নিচে পাওয়ায়, হার্দিক সেন্টারের কাছেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে পাকাপাকিভাবে থিতু হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কেন এই পরিকল্পনা? গত কয়েক বছরে পিঠের সমস্যা, গোড়ালির চোট এবং সাম্প্রতিক কোয়াড্রিসেপসের চোটের কারণে হার্দিককে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বিসিসিআই সূত্রের খবর, আগামী ৫ থেকে ৬ বছর ভারতের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে দাপটের সঙ্গে খেলতে চান হার্দিক। সেই লক্ষ্যেই তিনি শরীরকে ১০০ শতাংশ ফিট রাখতে এই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার পথে হাঁটলেন।

বিসিসিআই-এর সাথে ব্যক্তিগত টিম হার্দিক শুধু বিসিসিআই-এর বৈজ্ঞানিক ফিটনেস ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করছেন না, পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচকেও সঙ্গে রাখছেন। অর্থাৎ, বোর্ডের সুবিধা এবং ব্যক্তিগত সাপোর্ট স্টাফ—দুইয়ের সমন্বয়ে নিজের ফিটনেসের ওপর নিয়মিত কড়া নজর রাখবেন তিনি। এমনকি নেটে অতিরিক্ত অনুশীলনের জন্য আমন্ত্রিত বোলারদের খরচও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন।

ফেরা কি তবে জিম্বাবোয়ে সিরিজে? ৩২ বছর বয়সি হার্দিক বর্তমানে কোয়াড্রিসেপসের চোটের কারণে ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে গিয়েছেন। তবে আশা করা হচ্ছে, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই তিনি বেঙ্গালুরুতে ফিরে ফের রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে জিম্বাবোয়ে সিরিজে তাঁর ফেরার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে বিসিসিআই-এর ‘রিটার্ন-টু-প্লে’ প্রোটোকল এবং মেডিক্যাল টিমের ফিটনেস ছাড়পত্রের ওপর।

ভারতের ক্রিকেটে হার্দিকের এই সুশৃঙ্খল উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই রুটিন তাঁর কেরিয়ারে কতটা দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য আনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *