বাংলায় একাধিক জায়গায় বাঘ ছাড়ার সম্ভাবনা, জেনেনিন পরিবেশমন্ত্রীর ঠিক কী প্ল্যান?

পশ্চিমবঙ্গের বনভূমিতে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে এবার বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। মঙ্গলবার কলকাতায় জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ZSI)-র ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যের উপযুক্ত এলাকায় বাঘ ছাড়া যায় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
কেন এই পরিকল্পনা?
মন্ত্রী জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে কেন্দ্র এই উদ্যোগ নিতে চলেছে। বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। দেশের বৃহত্তর সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পশ্চিমবঙ্গকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
সারিস্কার সাফল্যের উদাহরণ
রাজস্থানের সারিস্কা টাইগার রিজার্ভের উদাহরণ টেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সেখানে বাঘের সংখ্যা শূন্যে নেমে গিয়েছিল। তবে পরিকল্পিত সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ সেখানে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬। তিনি আশাবাদী, একইভাবে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও পরিবেশগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের কোনো বনাঞ্চলেও বাঘের সংখ্যা ও অস্তিত্ব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
সংরক্ষণই ‘বিকশিত ভারত’-
এর ভিত্তি ভূপেন্দ্র যাদব আরও বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে ভারত এখন ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (IBCA) এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স-এর মতো আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, আবেগ নয়, বরং তথ্য ও উপাত্তই হবে এই প্রকল্পের চালিকাশক্তি। পশ্চিমবঙ্গের কোন এলাকা বাঘের জন্য উপযুক্ত হবে এবং সেখানকার পরিবেশ কতটা সহায়ক—তা যাচাই করতেই বিশেষজ্ঞদের দল কাজ করবে। পরিবেশগত মূল্যায়ন শেষ হলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রের এই ঘোষণা ঘিরে পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কোন বনাঞ্চল বাঘের নতুন আবাসস্থল হিসেবে নির্বাচিত হয়।