অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ! নতুন বিতর্ক ঘিরে ফের উত্তপ্ত ভারত-চিন সীমান্ত

ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলাকালীন অরুণাচল প্রদেশ থেকে নতুন করে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে এল। অরুণাচলের আপার সুবানসিরি জেলার নাহ জনজাতির প্রতিনিধিত্বকারী ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (NWS) অভিযোগ করেছে যে, গত ছয় বছরে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) তাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও শিকারের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেছে।

অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, যে এলাকাগুলিকে স্থানীয়রা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে গণ্য করে, সেখানে চিনা সেনাবাহিনী রাস্তাঘাট, সেনা শিবির এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে। সংগঠনটির আশঙ্কা, এই চিনা অগ্রাসনের ফলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে গ্রামবাসীদের বংশানুক্রমিক প্রবেশাধিকার ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। গবাদি পশু চড়ানো বা মৌসুমি চাষাবাদের মতো জীবিকার উৎসগুলি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা চলতি বছরের জুন মাসে আমরা দেখছি, ভারত ও চিন দুই দেশই দীর্ঘদিনের সীমান্ত অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন এই অভিযোগ সেই কূটনৈতিক আবহকে ফের জটিল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

সরকারের অবস্থান কী? নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অবিলম্বে ঘটনাস্থলে সরকারি সমীক্ষা পরিচালনা এবং ভারতীয় স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে, এই স্মারকলিপিতে করা দাবিগুলির সত্যতা এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ভারত সরকার কিংবা সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইসঙ্গে, চিনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বয়ান আসেনি।

পরবর্তী পদক্ষেপ সীমান্ত এলাকায় স্থিতাবস্থা রক্ষা ও স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত অধিকার বজায় রাখা বর্তমান প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি সূত্রের খবর, এই ধরনের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ভারতের নজরদারি আরও কঠোর করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি রিপোর্টের আগে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *