মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপের আঁচ শেয়ার বাজারে: বড় ধাক্কার মুখে সূচক, আপনার পোর্টফোলিও কি নিরাপদ?

তিন দিনের ছুটির পর আজ সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গেল এক মিশ্র ও মন্থর পরিস্থিতি। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে বাজারে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স কিছুটা পড়তির দিকে থাকলেও, শর্ট-কভারিংয়ের সুবাদে তা ফের ৭৭১২৭ পয়েন্টের ঘরে পুনরুদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা নিয়ে ২৪০৯৭ পয়েন্টে লেনদেন করছে।

বাজারের অস্থিরতার নেপথ্যে ‘যুদ্ধ’ আতঙ্ক
সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারতে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা একইসঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এশীয় বাজারে রক্তক্ষরণ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে এশীয় বাজারগুলোতে:

দক্ষিণ কোরিয়া (কোস্পি): প্রযুক্তি ও চিপ প্রস্তুতকারক শেয়ারে বিক্রির চাপে ২-৩% সূচক পতন।

জাপান (নিক্কেই ২২৫): ০.৬-১% পতন।

চীন (সাংহাই কম্পোজিট): ০.৫% কমে লেনদেন।

তবে কিছুটা ব্যতিক্রম অস্ট্রেলিয়ার এসএন্ডপি/এএসএক্স ২০০, যা ০.৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন ফিউচার ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
অন্যদিকে, মার্কিন শেয়ার বাজারের ফিউচারগুলো আজ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাসডাক ১০০ ফিউচার ০.৬-১%, এসএন্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.৫% এবং ডাও জোন্স ০.৩% বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শুরু করেছে। যদিও গত ২৬ জুন প্রযুক্তি খাতের বিশেষ করে এআই চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তীব্র বিক্রির চাপ ছিল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *