রাম মন্দিরে ভক্তির আড়ালে বড় জালিয়াতি! দানবাক্সের টাকা হাতাতেই বিলাসবহুল জীবন অভিযুক্তদের

রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে নগদ সাড়ে সাত লক্ষ টাকা এবং রামলালার গহনা চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য। অভিযুক্তদের মধ্যে মূল চক্রী হিসেবে উঠে আসছে অনুকল্প মিশ্র ও তার ভগ্নিপতি লবকুশ মিশ্রের নাম।

যেভাবে চলত জালিয়াতি
তদন্তকারীদের দাবি, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আউটসোর্সিং সংস্থার কর্মী হিসেবে তিন বছর আগে মন্দিরের দান গণনার টিমে যোগ দিয়েছিল অনুকল্প। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে নিজের ভগ্নিপতি লবকুশকেও ওই একই দলে ঢোকায়। রাম মন্দিরের উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

রাতারাতি ভাগ্য বদল
মিশ্ৰ পরিবারের আর্থিক অবস্থার এই অভাবনীয় পরিবর্তনই তাদের জালে জড়ানোর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে:

বিলাসবহুল বাড়ি: অযোধ্যার বাসব গ্রামে অনুকল্পের বাড়ি এখন গ্রামের সবচেয়ে অভিজাত অট্টালিকা। অথচ কয়েক বছর আগেও পরিবারটি অত্যন্ত দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থায় ছিল।

বিপুল সম্পত্তি: গত বছর অযোধ্যা শহরে ৬৫ লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি কেনা, বিলাসবহুল ফার্মহাউস তৈরি এবং নতুন স্করপিও এসইউভি বুক করার মতো ঘটনাগুলো তদন্তকারীদের নজরে আসে।

ভগ্নিপতির বিলাসিতা: লবকুশ মিশ্রও সম্প্রতি এক লক্ষ টাকার বেশি দামের বাইক কিনেছিলেন বলে অভিযোগ।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে প্রশ্ন: গত ৩০ এপ্রিল গ্রামে অনুকল্প এক সাত দিনব্যাপী বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, যেখানে মন্দিরের ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই-সহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেখা গিয়েছিল। এত টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

এখন পরিস্থিতি কী?
পুলিশ এবং তদন্তকারী দল এখন ওই আট অভিযুক্তের যাবতীয় সম্পত্তি ও ব্যাংক লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। অনুকল্পের দাদু রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র দাবি করেছেন, তিনি নাতির অপকর্মের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আরও কাউকে জেরা করা প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *