‘ঈশ্বর একজনই, নাম ভিন্ন’, তৈমুর-জেহ-কে উদার ধর্মের পাঠ দিলেন সইফ আলি খান

বলিউডের ‘ছোটে নবাব’ সইফ আলি খান বরাবরই নিজের স্বচ্ছ ও স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। আন্তঃধর্মীয় বিয়ে থেকে শুরু করে সন্তানদের বড় করে তোলার পদ্ধতি— সব ক্ষেত্রেই সইফ-করিনার পরিবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিজের সন্তানদের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে আলোচনার এক সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেতা।

ধর্ম নিয়ে সইফের দর্শন
সইফ অকপটে স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে খুব একটা গোঁড়া বা ধর্মানুরাগী নন। তবে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সংস্কারই তিনি সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত করছেন। সইফের কথায়, “আমার সন্তানদের আমি একটাই কথা শেখাই— ঈশ্বর এক, শুধু তাঁকে ডাকার নামগুলো আলাদা। তুমি যে কোনো জায়গায় গিয়ে উপাসনা করতেই পারো। কিন্তু আসল ধর্ম হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতা।”

শৈশবের স্মৃতি ও উদার পরিবেশ
নিজের বড় হয়ে ওঠার কথা বলতে গিয়ে সইফ জানান, তাঁর শৈশব কেটেছে খ্রিস্টান পরিবেশ, চার্চ ও চ্যাপেলের আবহে। মজার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, ছোটবেলায় চ্যাপেল ফাঁকি দিতে তিনি নিজেকে অন্য ধর্মের বলে দাবি করেছিলেন, যা নিয়ে স্কুলে কম কাণ্ড হয়নি। তবে এই বিচিত্র অভিজ্ঞতাই তাঁকে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখিয়েছে। সইফ জানান, তাঁদের বাড়িতে এখন দিওয়ালি থেকে ক্রিসমাস— দুই উৎসবই সমান উৎসাহে পালিত হয়।

তৈমুরের পরিপক্কতা
৯ বছর বয়সী তৈমুরের বুদ্ধিমত্তা ও পরিণত চিন্তাভাবনা দেখে অভিভূত সইফ। সম্প্রতি তিনি তৈমুরকে প্রশ্ন করেছিলেন, ধর্ম এবং পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কী? তৈমুরের ঝটপট উত্তর ছিল, “ধর্মে আমরা প্রার্থনা করি, কিন্তু পদ্ধতিতে করি না।” ছেলের এমন উত্তর শুনেই স্পষ্ট বোঝা যায়, করিনা ও সইফের দেওয়া মুক্ত চিন্তার আবহেই বড় হচ্ছে এই স্টার-কিডরা।

উদার মানসিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং অন্ধবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই পাঠই নবাব পরিবারের ছোটদের আগামী দিনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *