নিজেদের আঙিনায় জঙ্গি কেন? করাচি হামলার পর পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের

করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের ঘাঁটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দায় এড়াতে মরিয়া পাকিস্তান। ঘটনার পরপরই ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল ইসলামাবাদ। তবে সেই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিল ভারত। উল্টে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর ধ্বংস করতে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

যা বলেছে ভারত পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “করাচির সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আমরা তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।”

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের উচিত অন্যের দিকে আঙুল না তুলে নিজেদের ঘর সামলানো। নিজের ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করতে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিক পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদকে কৌশল হিসেবে ব্যবহারের পুরনো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে তাদের।”

কী ঘটেছিল করাচিতে? শনিবার সন্ধ্যায় করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরে আচমকাই হামলা চালায় জঙ্গিরা। একটি গাড়ি নিয়ে মূল ফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর শুরু হয় গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির লড়াই। প্রায় ৯০ মিনিটের রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য শহিদ হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, পাক বাহিনীর দাবি, অভিযানে ছয় জঙ্গি নিকেশ হয়েছে এবং একজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে।

কারা এই হামলার পেছনে? এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘জামাত-উল-আহরার’। এটি নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর একটি সহযোগী সংগঠন। অতীতেও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বড় ধরনের হামলার নেপথ্যে ছিল এই গোষ্ঠী। প্রসঙ্গত, গত বছর করাচি পুলিশ অফিসে হামলার পর এটিই করাচিতে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে করাচিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (SSU) এবং অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স। সিন্ধের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। তবে ভারতের পাল্টা চাপে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাপে পড়েছে পাকিস্তান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *