নদীর জলস্তর বাড়ছে হুড়মুড়িয়ে, প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ; জারি রেড অ্যালার্ট!

দক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, ঠিক তখনই প্রকৃতির রুদ্রমূর্তির সাক্ষী উত্তরবঙ্গ। বর্ষা প্রবেশের পর থেকেই উত্তরের জেলাগুলিতে চলছে প্রবল বর্ষণ। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জনজীবন কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যা নতুন করে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আলিপুরদুয়ারের ভারত-ভুটান সীমান্ত এলাকা। জয়গাঁ সংলগ্ন ফুন্টশোলিং গেটের একাংশ এখন জলের নিচে। হাসিমারা, কালচিনি, হ্যামিল্টনগঞ্জ এবং বানারহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি যেভাবে জটিল হচ্ছে, তাতে উদ্ধারকাজ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিপজ্জনক অবস্থায় নদীগুলি
টানা বৃষ্টির জেরে তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা, লিস, ঘিস, রায়ডাক ও জলঢাকা নদীর জলস্তর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ধসে বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা
বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় নেমেছে বড় ধরনের ধস। শিলিগুড়ি-মিরিক রোডের গয়াবাড়িতে ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের চরতোর্ষা নদীর ডাইভারশন জলের নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম। এছাড়া উত্তর সিকিমের ফিদাংয়ে সেনাবাহিনীর তৈরি বেইলি ব্রিজ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। গয়াবাড়ি চা বাগানের কাছে মাটি ও পাথরের চাঁই ধসে পড়ায় দুধিয়া এলাকার যান চলাচলও বিপর্যস্ত।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে রবিবার সারাদিনই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সোমবারও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জেলাগুলোতে জারি রয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে অহেতুক বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর হলো, ১ জুলাই থেকে সেখানেও বর্ষার দাপট বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। আপাতত উত্তরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকেই নজর সবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *