রাবণ দহনের মতোই পালন হোক ‘সংবিধান হত্যা দিবস’! কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার দিনটিকে কেবল ইতিহাসের পাতা থেকে পড়া নয়, বরং রাবণ দহনের মতোই প্রতি বছর ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। শুক্রবার ‘কালো জরুরি অবস্থা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র নিশানা করে এই আহ্বান জানান।
রাবণ দহনের সঙ্গে তুলনা মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, “দশেরায় আমরা যেভাবে অশুভ শক্তি রাবণকে দহন করি, ঠিক তেমনই প্রতি বছর সংবিধান হত্যা দিবস পালন করা উচিত। এটি অশুভের ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে ইতিহাসের এই ভয়াবহ অধ্যায় সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং কোনো নেতা পুনরায় এমন দুঃসাহস করার আগে শতবার ভাবেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ প্রয়োজন।”
রাহুল গান্ধীকে নিশানা এদিন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকেও সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের পকেটে সংবিধানের কপি নিয়ে ঘুরে বেড়ান এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন, তাদের মনে রাখা উচিত—গণতন্ত্র কোনো দলের বা ব্যক্তির দাস নয়।”
গণতন্ত্র সংগ্রামীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় লড়াই করা ১১৫ জন ‘গণতন্ত্র সংগ্রামী’ বা রাজনৈতিক কর্মীকে দিল্লি বিজেপির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, জয়প্রকাশ নারায়ণ এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো নেতারা সেই কঠিন সময়ে গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।
অন্যদিকে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থার সময় কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষকে যেতে হয়েছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের যুবসমাজের কাছে তুলে ধরা একান্ত প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার এই কৌশল আগামী দিনে দিল্লির রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে।