দূষণমুক্ত রেলের পথে ভারত! অনুমোদন পেল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, জেনে নিন এর অবিশ্বাস্য সব প্রযুক্তি

পরিবেশ দূষণ রোধে এক বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার ভারতেও চালু হতে চলেছে পরিবেশবান্ধব ‘হাইড্রোজেন ট্রেন’। রেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রেন চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর, হরিয়ানার ঝিন্দ-সোনিপত রুটটিকেই প্রথম বাণিজ্যিক রুটের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
কী এই হাইড্রোজেন প্রযুক্তি? হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেন ও বাতাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এতে কোনো ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কার্বন নির্গত হয় না, বরং উপজাত হিসেবে কেবল জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। অর্থাৎ, ট্রেনটি চলার সময় নিজেই নিজের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করে।
ট্রেনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
-
গতি: এই ট্রেন বাণিজ্যিক যাত্রার সময় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চললেও, পরীক্ষামূলকভাবে এটি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম।
-
সক্ষমতা: একবার হাইড্রোজেন পূর্ণ করলে ট্রেনটি অনায়াসে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবে।
-
কাঠামো: ১০ কোচের এই ট্রেনের প্রত্যেকটি ড্রাইভিং কারের ক্ষমতা ১,২০০ কিলোওয়াট। ট্রেনের ভেতরেই হাইড্রোজেন সিলিন্ডার, ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি সিস্টেমের জন্য বিশেষ স্থান রাখা হয়েছে।
-
নিরাপত্তা: সর্বোচ্চ সুরক্ষার লক্ষ্যে ট্রেনের সামনে ও পেছনে মোট ৫৪টি হাইড্রোজেন সিলিন্ডার বসানো হয়েছে।
দেশীয় প্রযুক্তি ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের আওতায় এটি তৈরি হয়েছে। এর নকশা করেছে লখনউয়ের ‘রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন’ (RDSO) এবং উৎপাদনের দায়িত্ব সামলেছে চেন্নাইয়ের ‘ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি’ (ICF)।
কেন এই রুট নির্বাচন? বর্তমানে ভারতের ৯৯.২ শতাংশ ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক বিদ্যুতচালিত। তবুও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেক। যেসব দুর্গম এলাকায় ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন বসানো প্রায় অসম্ভব, সেখানে এই হাইড্রোজেন ট্রেনই হবে ভবিষ্যতের সেরা বিকল্প। রেলের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থায় ভারতকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।